জলাবদ্ধতার নগরীতে পরিণত হচ্ছে গাইবান্ধা শহর

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ণ
জলাবদ্ধতার নগরীতে পরিণত হচ্ছে গাইবান্ধা শহর

সরকার শাহাদত হোসেন, গাইবান্ধা প্রতিনিধি: একটু বৃষ্টি হলেই যেন থমকে যায় গাইবান্ধা শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। রাস্তাঘাট ডুবে যায় হাঁটু পানিতে, বন্ধ হয়ে পড়ে যানবাহন চলাচল। কোটি টাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নানা প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে চলা এই জলাবদ্ধতা এখন গাইবান্ধা পৌরবাসীর নিত্যদিনের চরম ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে।

শহরের প্রাণকেন্দ্র শাপলা পাড়া, মালি পাড়া, পলাশ পাড়া, পশ্চিমপাড়া, ভিভিড কোম্পানি পাড়া, খানকা শরীফ এলাকা, ভিএইড রোড, সরকারি বালিকা বিদ্যালয় সড়ক, পূর্বপাড়া এবং মুন্সিপাড়াসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানি জমে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহরে ড্রেন নির্মাণ করা হলেও অধিকাংশ ড্রেন সঠিক পরিকল্পনা ও বৈজ্ঞানিক পরিমাপ অনুযায়ী করা হয়নি। অনেক ড্রেন সমতলভাবে নির্মাণ করায় পানির স্বাভাবিক ঢাল বা প্রবাহ সৃষ্টি হয় না। ফলে ড্রেনের ভেতরেই নোংরা পানি স্থির হয়ে থাকে। এ ছাড়া নিয়মিত সংস্কারের অভাবে কোথাও কোথাও ড্রেন ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। কোথাও কোথাও পানি নামতে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়।

মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা হোসেন আলী বলেন, “শহরের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ভিএইড রোড থেকে গোরস্থান পর্যন্ত এবং পুরাতন বাজার এলাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বছরের পর বছর সমস্যার কথা বলা হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি।” শাপলা পাড়ার একাধিক বাসিন্দা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই তাদের বাড়ির আঙিনা ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়, অনেক সময় বাসাবাড়িতে নোংরা পানি ঢুকে গৃহস্থালির সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হলো অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল ও নিচু জলাধার ভরাট, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা। আগে যেসব নিচু জমি বৃষ্টির পানি ধারণ করত, সেসব জায়গা এখন আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় রূপান্তরিত হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, শুধু নতুন ড্রেন নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; ড্রেন নির্মাণে পর্যাপ্ত ঢাল নিশ্চিত করা, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং শহরের সামগ্রিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন বা মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন জরুরি।

পৌর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শহরের যেসব স্থানে বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, সেসব এলাকায় মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী নতুন নর্দমা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তা বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে। তবে ভুক্তভোগী নগরবাসীর প্রশ্ন একটাই—প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি আর কতদিন? প্রতি বর্ষায় হাঁটু পানির এই অভিশাপ থেকে কবে মুক্তি মিলবে, এখন সেই উত্তরের অপেক্ষায় গাইবান্ধাবাসী।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন