উল্লাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:১০ অপরাহ্ণ
উল্লাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ

মো. কোরবান আলী, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের অত্যন্ত নিম্নমানের ও অপর্যাপ্ত খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও পরিস্থিতির কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রোগীদের পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাবার সরবরাহের নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন মিলছে না বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, দুপুরের খাবারে রোগীদের নামমাত্র পুষ্টিহীন খাবার দেওয়া হচ্ছে। মেনুতে অল্প পরিমাণ ভাতের সাথে থাকছে নামমাত্র ডাল এবং অত্যন্ত নিম্নমানের মাছ ও তরকারি। সরবরাহকৃত খাবার স্বাদ ও গুণের দিক থেকে খাওয়ার অনুপযোগী হওয়ায় সিংহভাগ রোগীই হাসপাতালের খাবার মুখে তুলছেন না।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দুপুরে যে খাবার দেওয়া হয়েছে, তাতে নুন-মশলা পর্যন্ত ঠিকমতো ছিল না। এটা মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়। বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে খাবার এনে খেতে হচ্ছে।” আরেক রোগীর স্বজন জানান, হাসপাতালের খাবারের মান এতটাই খারাপ যে রোগীরা এখন আর এর ওপর নির্ভর করতে পারছেন না। ফলে গরিব রোগীদেরও বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বাড়তি টাকা খরচ করে খাবার কিনতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী রোগীদের জন্য নির্ধারিত প্রতিদিনের মেনুতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভালো মাছ, মাংস, ডিম, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্য উপকরণ থাকার কথা। এ খাতে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের বরাদ্দও দেওয়া হয়। কিন্তু তদারকির অভাব ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির কারণে সেই বরাদ্দের সুফল রোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। ইতিপূর্বে এ নিয়ে একাধিক সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতির দিন দিন অবনতি ঘটছে। এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

তবে অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মোনেয়ার হোসাইন বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করেছি। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই খাবারের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে।” রোগাক্রান্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন