ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট তৈরির অনুমতি দিতে নারাজ ডোনাল্ড ট্রাম্প
অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত ও সামরিক সহায়তায় ইউক্রেনের নিজস্ব ভূখণ্ডে ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রস্তাব কিয়েভ দিয়েছিল, তাতে সম্মত হননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এর আগে তুরস্কে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়া হলেও, সম্প্রতি হোয়াইট হাউস ও ক্যাম্প ডেভিডের আলোচনায় সেই অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে আসার কথা জানান ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার মেরিল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্প ডেভিডে আয়োজিত মন্ত্রিসভার এক বিশেষ বৈঠকে ট্রাম্প নিজের এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির জন্য এটি একটি বড় ধরনের প্রস্তাবনা ছিল। তিনি কিছু প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা চান এবং কিছু টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রও চান—যার একটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং অন্যটি মারাত্মক আক্রমণাত্মক।”
উন্নত সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের ঝুঁকি ও সতর্কতা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “মাঝে মাঝে আমাদের সবাইকে সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিচক্ষণতা ও সতর্কতার মাত্রা অনেক বেশি বাড়াতে হয়। ইউক্রেনকে এ ধরনের সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তর করা অত্যন্ত জটিল ও কঠিন একটি কাজ। যদিও বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি, তবে হুট করে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।”
সিদ্ধান্তের পেছনে ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তার শঙ্কার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন, “আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এমন অনেক পরিবর্তনশীল সমীকরণ ও ব্যক্তি রয়েছে, যাদের হাতে এমন বিশ্বমানের সামরিক প্রযুক্তি তুলে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে যেকোনো সময় তা নিজেদের বিরুদ্ধেই ঘুরে যেতে পারে।”
উল্লেখ্য, রাশিয়ার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘প্যাট্রিয়ট’ সিস্টেম ও পিএসি-৩ (PAC-3) আন্তঃসংযোগকারী ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তবে বর্তমান সময়ে এই পিএসি-৩ মূল ক্ষপণাস্ত্রের চরম সংকট দেখা দেওয়ায় দেশেই তা উৎপাদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অফিসিয়াল ছাড়পত্র ও প্রযুক্তিগত সহায়তা চেয়ে আসছিলেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক অনীহার ফলে ইউক্রেনের নিজস্ব প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
|