সরকারের সমালোচনা অপরাধ নয়, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বক্তব্য অপরাধ: তথ্যমন্ত্রী
গঠনমূলক প্রক্রিয়ায় সরকারের সমালোচনা করা কোনো অপরাধ নয়, তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া নিশ্চয়ই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন।
আজ রোববার (২ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, “মানবধর্ম ও সভ্যতার ধারাবাহিক বিকাশের ধারায় সাংবাদিকতা আজ এমন এক আধুনিক উচ্চতায় পৌঁছেছে যে, সংবিধানিকভাবে এটি সরাসরি রাষ্ট্রের চতুর্থ অঙ্গ না হলেও বাস্তবে এটি রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।”
সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব ও বস্তুনিষ্ঠতা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “সাংবাদিকতার দায়িত্ব কেবল তথ্য সংগ্রহ বা সত্য অনুসন্ধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; সেই উদ্ঘাটিত সত্য জনকল্যাণে কতটুকু কাজে আসছে তাও দেখতে হবে। তবে ক্ষেত্রবিশেষে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যদি নিজস্ব কোনো পূর্বনির্ধারিত এজেন্ডা বা লক্ষ্য থাকে, তবে বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, উন্মোচিত সত্য যখন নিজস্ব পছন্দের সাথে মেলে না, তখন সাংবাদিকতা এক কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে।”
আধুনিক শাসনব্যবস্থা ও রাষ্ট্রের অবস্থান সম্পর্কে জহির উদ্দীন স্বপন বলেন, “রাষ্ট্র পরিচালনা একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসম্পৃক্ত প্রক্রিয়া। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কি জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে, নাকি দমন-পীড়নের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে—তা নির্ভর করে শাসকের উদ্দেশ্য ও মনস্তত্ত্বের ওপর। কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এতে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক ও দৈনিক নিউ এজের সম্পাদক নুরুল কবীর।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুব রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত গুণীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
|