কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুস্তাফা মনোয়ারকে শেষ শ্রদ্ধা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০২:২৫ অপরাহ্ণ
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুস্তাফা মনোয়ারকে শেষ শ্রদ্ধা
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ারের কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন। (ছবি: সংগৃহীত)

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, বরেণ্য চিত্রশিল্পী এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত অনন্য সাংস্কৃতিক সাধক মুস্তাফা মনোয়ারকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে নাট্য, চারুকলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে তাঁর কফিনে ফুল দিয়ে জীবনের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য আনার আগে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে এই বরেণ্য শিল্পীর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন বিটিভির মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করায় তাঁর স্মৃতিবিজড়িত এই কর্মস্থলে সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। জানাজা ও সেখানে সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণ শেষে দুপুর ১২টার পর তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে আসা হয়।

শহীদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে আয়োজিত এই শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে এই মহান মুক্তিযোদ্ধার প্রতি সম্মান জানিয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা তথা ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে তাঁর দ্বিতীয় জানাজা শেষে মরদেহ বনানী কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানেই তাঁকে চিরনিদ্রায় দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতার পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

বাংলাদেশে পুতুলনাট্য বা পাপেট চর্চার আধুনিক রূপকার ও জাদুকর বলা হতো মুস্তাফা মনোয়ারকে। তাঁর হাত ধরেই পাপেট এ দেশে একটি শক্তিশালী শিল্পমাধ্যম হিসেবে পরিচিতি পায়। একই সাথে চারুকলার শিক্ষক হিসেবে এবং বিটিভির শুরুর দিনগুলোতে তাঁর নান্দনিক কাজ ও শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘মনের কথা’র ‘পারুল ব্যাঙ’ চরিত্রটি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। গুণী এই মানুষের চিরবিদায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে শিল্প ও সংস্কৃতিপ্রেমী সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা তাঁকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণা করছেন।

মন্তব্য করুন