কুকুরকে বার্মিজ চাকু দিয়ে জখম করে গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০১:৫৫ অপরাহ্ণ
কুকুরকে বার্মিজ চাকু দিয়ে জখম করে গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী
বগুড়ায় একটি পথকুকুরকে বার্মিজ চাকু দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

ওয়াফিক শিপলু, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া শহরের কানছগাড়ী এলাকায় একটি পথকুকুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় প্রাণিকল্যাণ আইনে বগুড়া সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তের কাছ থেকে রক্তক্ষয়ী হামলায় ব্যবহৃত একটি ক্ষুরধার বার্মিজ চাকুও উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি জানাজানির পর শহরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও নিন্দার সৃষ্টি করেছে।

সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া) বগুড়া শাখার আহ্বায়ক সদস্য মো. এমরান হোসেন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় কানছগাড়ী পুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. স্বপনকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে একটি পথকুকুরকে নৃশংসভাবে আঘাতের খবর পেয়ে বাওয়া প্রতিনিধি মো. এমরান হোসেন দ্রুত কানছগাড়ী এলাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট হাসপাতালের পশ্চিম পাশের একটি গলিতে যান। সেখানে একটি সাদা-কালো রঙের পথকুকুরকে গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় ড্রেনে পড়ে ছটফট করতে দেখেন। পরবর্তীতে স্থানীয় মানবিক বাসিন্দা এস এম সাদিকুল ইসলাম ও রাফিদ ইয়াসাদের সক্রিয় সহযোগিতায় ড্রেন থেকে মুমূর্ষু কুকুরটিকে উদ্ধার করে জলেশ্বরীতলার একটি আধুনিক পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

বাদীর বরাত দিয়ে জানা গেছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা এবং জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বিত একটি অভিজ্ঞ চিকিৎসক দল তাৎক্ষণিকভাবে কুকুরটির জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। জটিল অস্ত্রোপচার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়ার পর বর্তমানে অবলা প্রাণীটির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অভিযুক্ত ফার্নিচার ব্যবসায়ী স্বপন কোনো কারণ ছাড়াই ধারালো বার্মিজ চাকু দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কুকুরটিকে নির্মমভাবে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। আহত প্রাণীটির জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আইনি পরামর্শ করার কারণে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাওয়া প্রতিনিধিরা জানান।

বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতোয়ার হোসেন একটি গণমাধ্যমকে জানান, বর্বরোচিত এই ঘটনার অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত মাঠে নামে এবং বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত স্বপনকে কানছগাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে অপরাধে ব্যবহৃত ক্ষুরধার বার্মিজ চাকুটিও জব্দ করা হয়েছে।

বগুড়া সদর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, দেশের প্রচলিত প্রাণিকল্যাণ আইনে দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তাধীন রয়েছে। অবলা প্রাণীর ওপর এমন নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

মন্তব্য করুন