দিনাজপুরে পাচারের সময় ৮৩ বস্তা সার আটক, কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:২১ পূর্বাহ্ণ
দিনাজপুরে পাচারের সময় ৮৩ বস্তা সার আটক, কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ

তাজুল ইসলাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরে পাচারের সময় ৮৩ বস্তা রাসায়নিক সার হাতেনাতে আটক করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা দিনাজপুর-ফুলবাড়ী মহাসড়ক প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন, যার ফলে সড়কের দুই পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে। পরে স্থানীয় প্রশাসন সারগুলো জব্দ করে এবং অভিযুক্ত অবৈধ সার ব্যবসায়ীদের জরিমানা করলে রাত ১২টার দিকে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন। গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৮টার দিকে চিরিরবন্দর উপজেলার আমতলী বাজারে ৭টি ভ্যানে পাচারের সময় এই সারগুলো আটক করা হয়।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, চিরিরবন্দর উপজেলার পুনট্টি ইউনিয়নের ডিলারদের কাছে ধর্ণা দিয়েও তারা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছিলেন না। ডিলাররা গোপনে অধিক মুনাফার আশায় অন্য এলাকায় সার বিক্রি করে আসছিলেন। মঙ্গলবার রাতে তারাবির নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় আমতলী বাজারে ৭টি ভ্যানে করে সদর উপজেলার দিকে সার নিয়ে যেতে দেখে কৃষকদের সন্দেহ হয়। তারা ভ্যানগুলো আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যায়, সারগুলো নিয়মবহির্ভূতভাবে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত কৃষক জড়ো হয়ে রাত ১০টার দিকে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

খবর পেয়ে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেহা তুজ জোহরা, কৃষি কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা এবং থানার ওসি মাহমুদুন নবী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ সার ব্যবসায়ী মাহামুদুলকে ৫০ হাজার টাকা এবং জাহাঙ্গীর নামে আরেক বিক্রেতাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দকৃত ৮৩ বস্তা সারের মধ্যে রয়েছে ২১ বস্তা ডিএপি, ১৯ বস্তা ইউরিয়া, ৬ বস্তা টিএসপি, ২৯ বস্তা পটাশ এবং ৮ বস্তা জিপ সার। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জব্দকৃত এসব সার স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন