শ্যামনগরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

মেহেদী হাসান মারুফ, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বুড়িগোলিনী ইউনিয়নের বাসিন্দা আবু ইছা ও শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কথিত ও সাজানো ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলার পাঁয়তারার প্রতিবাদে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মুনসুর সরদার গ্যারেজ বাজারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে এলাকার শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মাছুরা পারভীন। তিনি তাঁর বক্তব্যে মূল ঘটনাটি সামনে এনে বলেন, “গত ৩ জুন বিকেল ৫টার দিকে কোরবানির মাংস ফ্রিজে রাখা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সামান্য কথা-কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা হয়। সম্পূর্ণ পারিবারিক ও তুচ্ছ এই কলহের জের ধরে এবং ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে ছফিরন বিবি নামের ওই নারী পরবর্তীতে শ্যামনগর থানায় গিয়ে আবু ইছা ও শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি কাল্পনিক ও মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন, যা শতভাগ ভিত্তিহীন।”

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গাজী আজিজুল ইসলাম এবং আবাদচন্ডিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোস্তফা আল মামুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

শিক্ষক মোস্তফা আল মামুন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো। ছফিরন বিবি ও তাঁর স্বামী আব্দুল আজিজ পেশাদার মামলাবাজ। তাঁরা বিভিন্ন সময়ে তুচ্ছ অজুহাতে এলাকার নিরীহ মানুষদের বিরুদ্ধে এই ধরনের সম্মানহানিকর মামলা দিয়ে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ হাতিয়ে নেন বলে এলাকায় ভুরিভুরি অভিযোগ রয়েছে।” আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে এই মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার এবং এলাকার শান্তি বজায় রাখার দাবি জানান।

মিথ্যা মামলার অপচেষ্টার বিষয়ে জানতে অভিযোগকারী ছফিরন বিবির মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর স্বামী আব্দুল আজিজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে থতমত খেয়ে যান এবং “পরে কথা বলবেন” বলে দ্রুত কলটি কেটে দেন।

এ ব্যাপারে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে পুলিশী তদন্ত চলছে। তবে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, তদন্তে সত্য-মিথ্যা যাচাই করেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় কোনো নির্দোষ বা নিরপরাধ ব্যক্তিকে কোনোভাবেই জড়ানো হবে না।”

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন