কয়রায় নিম্নমানের সড়ক নির্মাণ: কাজ বন্ধ করে দিল জনতা

প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০২:৫৮ অপরাহ্ণ
কয়রায় নিম্নমানের সড়ক নির্মাণ: কাজ বন্ধ করে দিল জনতা

মোস্তাফিজুর রহমান, কয়রা (খুলনা): সরকারি অর্থ অপচয় ও চরম অনিয়মের অভিযোগ তুলে খুলনার কয়রায় একটি নতুন সড়কের পিচ ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ জনতা। উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া-রোনবাগ সড়কের কার্পেটিং শেষ হতে না হতেই তা খসে পড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, মাত্র তিন দিন আগে হওয়া পিচ ঢালাই হাত দিয়ে টানলেই উঠে আসছে। এমন নিম্নমানের কাজ দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়ে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এলাকাবাসী একজোট হয়ে ঠিকাদারের চলমান কাজ বন্ধ করে দেন।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ওই এক কিলোমিটার সড়কে গিয়ে দেখা যায়, নতুন কার্পেটিংয়ের বহু জায়গায় বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে। পিচের আস্তরণ এতটাই নড়বড়ে যে সাধারণ মানুষের হাতের সামান্য চাপেই তা উঠে আসছে। স্থানীয়রা জড়ো হয়ে ধসে পড়া পিচ হাতে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এ সময় সড়কের মাঝে একটি রোলার গাড়ি অলস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রতিনিধি বা শ্রমিককে স্পটে পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রকল্পের মাঝামাঝি অংশে নিয়ম অনুযায়ী কাজের বিবরণী সম্বলিত কোনো তথ্যফলক বা সাইনবোর্ডও প্রকল্প এলাকায় পাওয়া যায়নি।

মাদারবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাত দিলেই যদি রাস্তা উঠে যায়, তবে তা টিকবে কয়দিন? ঠিকাদারের লোকদের এ বিষয়ে বলতে গেলে তারা উল্টো আমাদের ওপর চড়াও হয়। আমরা এই হরিলুটের সঠিক তদন্ত চাই।” মহারাজপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জামাল ফারুক বলেন, “রাস্তার কার্পেটিংয়ে পিচের পরিমাণ এতই কম যে তা ধুলার মতো অবস্থা। নিচের ময়লা-আবর্জনা ও বালু পরিষ্কার না করেই তার ওপর ঢালাই দেওয়া হয়েছে। ফলে তিন দিনের মাথায় পিচ হাত দিয়ে টেনে তোলা যাচ্ছে।”

কয়রা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই এক কিলোমিটার সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ‘মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২ কোটি ৬৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকার এই কাজের নির্ধারিত সময়সীমা ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর পার হয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটি সময়মতো কাজ শেষ করতে পারেনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. হাসান দাবি করেন, “আমরা এলজিইডির নিয়ম মেনেই কাজ করছি। এটি কাজের প্রথম ধাপ বা লেভেলিং কোট। এরপর চূড়ান্ত দফার পিচ ঢালাই দেওয়া হলে রাস্তা মজবুত হবে। গ্রামবাসী না বুঝেই কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।”

কয়রা উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, “বিটুমিনের এই কাজে প্রাইম কোট সঠিকভাবে না দেওয়ার একটি প্রাথমিক অভিযোগ আমরা পেয়েছি। আপাতত পুরোনো প্রাইম কোটের ওপর কার্পেটিং করতে নিষেধ করা হয়েছে। পিচ উঠে যাওয়ার বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন