রংপুরে স্কুলশিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩

প্রকাশ: রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ
রংপুরে স্কুলশিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩
রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার
আবু রায়হান, রংপুর ব্যুরো: রংপুর মহানগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাছুয়াপাড়ায় একটি নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষক, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। শনিবার মধ্য রাতে বাড়িটির তালা ভেঙে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মুগ্ধ ও সিদ্ধান্তসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৮) এবং ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে ওই পরিবারের কাউকে বাড়ির বাইরে দেখা যাচ্ছিল না। বাড়িটিও বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। একই সঙ্গে কয়েক দিন ধরে বাড়ির ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

পুলিশ জানায়, বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলের মরদেহ ছাদ থেকে, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ তিনতলায় ওঠার সিঁড়ি থেকে এবং ছেলে প্রীয়মের মরদেহ একটি খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। মরদেহগুলো পচন ধরায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের বলেন, দোতলা বাড়ির প্রধান গেট তালাবদ্ধ ছিল। তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থান থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। সিআইডির তদন্ত দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তবে পারিবারিক কোনো মর্মান্তিক ঘটনার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ, সময় এবং ঘটনার পেছনের রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশ ও সিআইডির ফরেনসিক দল তদন্ত করছে।

এ ঘটনায় মুগ্ধ ও সিদ্ধান্তসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানিয়েছেন, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।

চারজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির পর তাঁদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু এবং তিনজনকে আটকের ঘটনায় মাছুয়াপাড়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মন্তব্য করুন