জলঢাকায় ১১টি লেবার ইউনিয়ন নিয়ে তোলপাড়

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৯ অপরাহ্ণ
জলঢাকায় ১১টি লেবার ইউনিয়ন নিয়ে তোলপাড়

আবু রায়হান, রংপুর: নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় লোড-আনলোড শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন নিয়ে গুরুতর অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন এবং শ্রমিকদের মধ্যে বিভক্তির অভিযোগে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। এসব অনিয়ম তদন্ত ও ১১টি ইউনিয়নের নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর তৃতীয়বারের মতো লিখিত আবেদন জমা পড়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পাঠানো ওই আবেদনে জলঢাকা উপজেলা লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জোনাব আলী অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী চক্র ও শ্রম অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে আইন বহির্ভূতভাবে একের পর এক ইউনিয়নের নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই ছোট উপজেলায় ইউনিয়নের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১টিতে, যা নিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

আবেদন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত শ্রমিক নন এমন ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নিবন্ধন হাসিল করা হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইনের শর্তাবলি তোয়াক্কা না করেই এসব ইউনিয়ন গঠন করায় প্রকৃত শ্রমিকরা কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং শ্রমবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি উঠেছে সদ্য নিবন্ধিত ‘জলঢাকা পৌরসভা লোড আনলোড লেবার ইউনিয়ন’ (রেজি নং রং–৭০) ঘিরে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, এই ইউনিয়নের নিবন্ধনের জন্য ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে। ইউনিয়নের একজন উচ্চপদস্থ নেতা প্রকাশ্যে এই অর্থ লেনদেনের কথা স্বীকার করেছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

জলঢাকা বাজারের একজন প্রবীণ শ্রমিক আক্ষেপ করে বলেন, "আগে তিনটি ইউনিয়ন ছিল, এখন ১১টি। কাজ বাড়েনি বরং ভাগ হয়ে গেছে। এতে আমাদের আয় কমেছে আর অদৃশ্য টানাপোড়েন বেড়েছে।" স্থানীয়দের মতে, ট্রেড ইউনিয়নগুলো এখন শ্রমিক স্বার্থ রক্ষার চেয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

আবেদনে তিনটি মূল দাবি উত্থাপন করা হয়েছে: ১. নিবন্ধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাইয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন। ২. অনিয়ম প্রমাণিত হলে অবৈধ ইউনিয়নের নিবন্ধন বাতিল। ৩. দুর্নীতির সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নীরবতা সাধারণ শ্রমিকদের মনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত করছে। এখন দেখার বিষয়, পর পর তিনটি আবেদনের পর শ্রম অধিদপ্তর এই বিশৃঙ্খলা নিরসনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয় কি না।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন