বিশ্বকাপের ধকলে অসুস্থ নরওয়ের একাধিক ফুটবলার;
স্পোর্টস ডেস্ক: চলমান ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে একের পর এক চমক দেখিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে ইউরোপের উদীয়মান পরাশক্তি নরওয়ে। তবে শেষ আটের টিকিট পেলেও দলটিতে এখন হানা দিয়েছে ‘বিশ্বকাপের ধকল’। টানা দীর্ঘ সফর, কঠোর অনুশীলন এবং নকআউট পর্বের চরম উত্তেজনাকর ম্যাচের মানসিক ও শারীরিক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নরওয়েজিয়ান ফুটবলারদের শরীরে। আগামী শনিবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামার আগে দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় অসুস্থতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন নরওয়ের প্রধান কোচ স্টলে সোলবাক্কেন।
কোচ সোলবাক্কেন নরওয়ের গণমাধ্যমকে জানান, দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ইয়োরগেন স্ট্রান্ড লারসেন হঠাৎ করেই তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। লারসেনের পাশাপাশি দলের আরও কয়েকজন ফুটবলার কাশি ও গলাব্যথার মতো মৌসুমি সমস্যায় ভুগছেন। তবে কোচ একে গুরুতর কোনো ভাইরাসের আক্রমণ মনে করছেন না। তাঁর মতে, টানা দীর্ঘ সফর, ঘন ঘন বিমানযাত্রা, হোটেলের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) পরিবেশ এবং ম্যাচ শেষে ভেজা শরীরে হুট করে পোশাক পরিবর্তনের কক্ষের (ড্রেসিংরুম) তাপমাত্রার তারতম্যের কারণেই খেলোয়াড়দের শরীরে এমন নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সোলবাক্কেন পুরো বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার চেষ্টা করে বলেন, “বিশ্বকাপে আমাদের পুরো বহরে সফরসঙ্গী হিসেবে প্রায় ৫০ জন মানুষ রয়েছেন। এত দীর্ঘ সময় ধরে একটি বড় দলের সবাই একসঙ্গে থাকার পর এবং আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের কারণে কারও না কারও অসুস্থ হয়ে পড়াটা মোটেও অস্বাভাবিক বা অলৌকিক কিছু নয়।”
এর আগে শেষ ষোলোর বা দ্বিতীয় রাউন্ডের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার সময়ও নরওয়ে শিবিরে ধাক্কা লেগেছিল। সেই ম্যাচে অসুস্থতার কারণে খেলতেই পারেননি নরওয়ের রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা ২৫ বছর বয়সী ডিফেন্ডার মার্কুস হোমগ্রেন পেডারসেন। পেডারসেনের এই আকস্মিক অসুস্থতার পেছনে কেবল আবহাওয়া নয়, বরং বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চের তীব্র মানসিক চাপও বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করেন নরওয়েজিয়ান কোচ।
সোলবাক্কেনের ভাষ্যমতে, “২৫ বছর বয়সী তরুণ পেডারসেন টুর্নামেন্টের শুরুতে ভেবেছিলেন তিনি হয়তো শুধু একজন বদলি খেলোয়াড় (Sub) হিসেবেই ডাগআউটে থাকবেন। কিন্তু পরবর্তীতে গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচে মূল একাদশে সুযোগ পেয়ে তিনি দুর্দান্ত ফুটবল খেলেন। বিশ্বকাপের মতো এত বড় মঞ্চের লাইমলাইটের চাপ, জীবনের একদম নতুন অভিজ্ঞতা এবং নকআউটের তীব্র মানসিক উত্তেজনার কারণেই মূলত তাঁর শরীর কিছুটা ভেঙে পড়েছে।”
আগামী শনিবার ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ আটের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে নরওয়ে। সেমিফাইনালে ওঠার এই ঐতিহাসিক ও মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে অসুস্থ খেলোয়াড়দের, বিশেষ করে স্ট্রান্ড লারসেন এবং পেডারসেনকে দ্রুত সম্পূর্ণ ফিট ও সুস্থ করে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নরওয়ের মেডিকেল টিম। পুরো নরওয়ে ফুটবল ভক্তরা এখন তাঁদের প্রিয় তারকাদের দ্রুত সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
|