পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের আপিলের রায় বৃহস্পতিবার

প্রকাশ: বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের আপিলের রায় বৃহস্পতিবার
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার শুনানি (ফাইল ছবি)

অনলাইন ডেস্ক: সংবিধানের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত পঞ্চদশ সংশোধনী আইন নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আগামী কাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এ বিষয়ে বহুল প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন।

আজ বুধবার (৮ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে আংশিক শুনানি শেষে রায় ঘোষণার এই দিন নির্ধারণ করা হয়। এর আগে, গত বছরের ১৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পক্ষগুলোকে আপিলের আনুষ্ঠানিক অনুমতি (লিভ টু আপিল) দিয়েছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর পঞ্চদশ সংশোধনীর অংশবিশেষ অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তৎকালীন রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তিসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারাকে বাংলাদেশের সংবিধানের মূল কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত হওয়া বিতর্কিত ৭(ক), 7(খ) ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে গত বছরের ৮ জুলাই হাইকোর্টের উক্ত পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশিত হলে, পঞ্চদশ সংশোধনী আইনটি শুধু আংশিক নয় বরং সম্পূর্ণ বাতিল চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার বিশিষ্ট ব্যক্তি। এর পাশাপাশি পৃথকভাবে আপিল দায়ের করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং মোফাজ্জল হোসেন।

আজ আদালতে চার বিশিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া। অন্যদিকে মিয়া গোলাম পরওয়ার ও মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে আইনি যুক্তি তুলে ধরেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির।

গুরুত্বপূর্ণ এই শুনানি শেষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, “পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের সংবিধানে এমন কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা কার্যত মূল সংবিধান পুনর্লিখনের শামিল।”

তিনি আদালতে পেশ করা তাঁর আইনি যুক্তি পুনর্ব্যক্ত করে আরও বলেন, “সংবিধানের নীতিনির্ধারণী ও কাঠামোগত বিষয়গুলো মূলত জাতীয় সংসদের বিবেচনার বিষয়। সংবিধানে কোন সংশোধনী বহাল থাকবে কিংবা কোন ধারা পরিবর্তিত হবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের পরিবর্তে জনগণের নির্বাচিত সংসদের নেওয়া উচিত। আমরা মনে করি, প্রস্তাবনায় আনা পরিবর্তনগুলোর বিষয়েও আদালতের পরিবর্তে সংসদই ঐতিহাসিক ‘জুলাই চার্টারের’ আলোকে বিস্তারিত বিতর্ক ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুক।”

মন্তব্য করুন