‘আর্জেন্টিনা অজেয় নয়, আমরা হারানোর লক্ষ্যেই নামব’
স্পোর্টস ডেস্ক: চলমান ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মিসরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানের এক শ্বাসরুদ্ধকর ও মহানাটকীয় জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করার পরপরই আলবিসেলেস্তে শিবিরের উদ্দেশ্যে এক প্রকাশ্য ও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন সুইজারল্যান্ডের প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিন। আগামী ম্যাচে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে সুইস কোচ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের নাম বা ইতিহাস দেখে তাঁর দল বিন্দুমাত্র ভয় পাচ্ছে না, বরং আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে সুইজারল্যান্ড।
ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান ও কাগজের হিসাব অবশ্য সম্পূর্ণভাবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কথা বলছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৭ বার মুখোমুখি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে সুইসরা। তবে এর মধ্যে একটি ম্যাচেও জয়ের মুখ দেখতে পারেনি ইউরোপের এই ঘাতক দলটি। ৫টি ম্যাচেই শেষ হাসি হেসেছে আর্জেন্টিনা এবং বাকি দুটি ম্যাচ অমীমাংসিত বা ড্র হয়েছে।
কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার পর সংবাদ সম্মেলনে মুরাত ইয়াকিনকে এই পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বেশ চড়া আত্মবিশ্বাস প্রদর্শন করেন। ইয়াকিন বলেন, “আমরা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলতে নামছি, এটি আমাদের জন্য একটি অসাধারণ ও রোমাঞ্চকর সুযোগ। তবে ফুটবল মাঠে অতীত ইতিহাস দিয়ে বর্তমান ম্যাচ জেতা যায় না। বর্তমান আর্জেন্টিনা দলটি মোটেও অজেয় কোনো দল নয়। অবশ্যই, আমরা তাদের হারানোর স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামব। দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোর খেলার স্টাইল, শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে আমাদের টেকনিক্যাল টিম খুব ভালোভাবেই অবগত।”
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, মুরাত ইয়াকিনের এই আকাশচুম্বী আত্মবিশ্বাসের পেছনে মূলত কাজ করছে আর্জেন্টিনার চলতি বিশ্বকাপের নড়বড়ে রক্ষণভাগ ও অস্থিতিশীল পারফরম্যান্স। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ থেকে শুরু করে শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার যেভাবে হারতে হারতে জয় পাওয়ার রেকর্ড তৈরি হয়েছে, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেসদের ডিফেন্স যেভাবে বারবার ভেঙে পড়ছে, সেটাই হয়তো সুইস কোচকে ভেতরে ভেতরে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। বিশেষ করে মিসরের সালাহ-মারমুশ জুটি যেভাবে কাউন্টার অ্যাটাকে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ তছনছ করেছিল, সুইজারল্যান্ডের গ্রানিত জাকা ও জেরদান শাকিরিরা সেই একই ফাটল কাজে লাগিয়ে বড় অঘটন ঘটাতে চান।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার এই মরণ-বাঁচন লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত লিওনেল মেসির জাদুকরী ফুটবল টিকে থাকে, নাকি মুরাত ইয়াকিনের সুইস রণকৌশল ইতিহাস বদলে দেয়, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।
|