আর্জেন্টিনার জয়ে পরীমণি-চঞ্চল- কেয়া পায়েল দের বাঁধভাঙা উল্লাস
বিনোদন ডেস্ক: মাঠে তখন টানটান উত্তেজনা। ২১ মিনিটে পেনাল্টি মিস করে বসা লিওনেল মেসি যখন ৮৩ মিনিটে চোখের পলকে সমতাসূচক গোলটি করলেন এবং শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজ জয়সূচক গোল এনে দিলেন, তখন শুধু আটলান্টার গ্যালারি নয়, উল্লাসে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশও। ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন আর নাটকীয় জয় কেবল সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদেরই নয়, ছুঁয়ে গেছে দেশের শোবিজ অঙ্গনের একঝাঁক তারকাকেও। ম্যাচ শেষ হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের আনন্দ, উৎকণ্ঠার অভিজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়া ভাগ করে নিয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী, পূর্ণিমা, পরীমণি, কেয়া পায়েল ও তাসরিফ খানের মতো তারকারা।
জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চলা রোমাঞ্চ ও ভয় নিয়ে লিখেছেন, “খুব ভয় পাইছিলাম রে, তবে মিশর দুর্দান্ত খেলেছে।” শুধু নিজের দলের জয়ই নয়, প্রতিপক্ষ মিসরের লড়াকু পারফরম্যান্সেরও মনখোলা প্রশংসা করেছেন এই শক্তিশালী অভিনেতা।
অন্যদিকে, ঢালিউডের মিষ্টি মেয়ে খ্যাত চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা আর্জেন্টিনার এই ঐতিহাসিক রাত নিয়ে বেশ আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আর্জেন্টিনার জন্য কী দুর্দান্ত একটি রাত! যখন সারা বিশ্ব ভেবেছিল সব শেষ, মেসি এবং তাঁর যোদ্ধারা দেখিয়ে দিলেন সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নদের হৃদস্পন্দন কেমন হয়। সাহস, আবেগ আর বিশ্বাস এক নান্দনিক উপায়ে পুরো খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিল। আলহামদুলিল্লাহ।’
সবচেয়ে বেশি চমক ও রসিকতা ছড়িয়েছেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমণি। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কিন্তু হাসপাতালের কেবিনে থেকেও প্রিয় দল আর্জেন্টিনার খেলা দেখা মিস করেননি তিনি। নিজের স্বভাবসুলভ হাসির ছলে পরীমণি লিখেছেন, ‘হসপিটালে পা ভাঙা রোগীদের ফুটবল খেলা দেখা নিষেধ। আমি কিছু জানি না।’
মেসিদের এই ফিরে আসার গল্পে মুগ্ধ হয়েছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। আলবিসেলেস্তেদের এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘পৃথিবীর সেরাদের কাছ থেকে সেরা কামব্যাক।’ আর তরুণ অভিনেত্রী কেয়া পায়েল নিজের শারীরিক উত্তেজনার কথা প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘ম্যাচের শেষ মুহূর্তের উত্তেজনায় আমার হার্টবিট ফাস্ট হয়ে গেছে।’
সংগীত অঙ্গনের তারকারাও পিছিয়ে ছিলেন না এই জয়োল্লাসে। গায়ক বেলাল খান ম্যাচের উত্তেজনা নিয়ে কট্টর ট্রোলারদের খোঁচা মেরে মজার ছলে লিখেছেন, ‘রূপকথাকেও হার মানালো আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত কোনো দুর্নীতি ছিল না, রেফারিও ভালোই ছিল। কিন্তু যখন থেকে আর্জেন্টিনা গোল দিয়েছে, তখন থেকেই দুর্নীতি শুরু হয়েছে। হা হা হা।’
পপ গায়িকা মিলা সরাসরি মাঠে বসে খেলা দেখার দারুণ এক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে লিখেছেন, “এই যে দেখো, আমি খেলা দেখতে গেলাম আর যখনই আমি আর্জেন্টিনাকে ডাকলাম, অমনি জিতে গেল আর্জেন্টিনা।”
তবে ম্যাচের আসল নায়ক লিওনেল মেসির প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও আস্থার কথা সবচেয়ে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন কুঁড়েঘর ব্যান্ডের জনপ্রিয় গায়ক তাসরিফ খান। মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি লিখেছেন, ‘জাদুকর যখন আছে মাঠে, ভয়ের কী আছে তবে? এগিয়ে যাও আর্জেন্টিনা।’
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর থেকেই দেশের তারকাদের ফেসবুক প্রোফাইল ও পেজগুলো নীল-সাদা উল্লাসের চাদরে ঢেকে যায়। সাধারণ সমর্থকদের মতোই তারকারাও প্রিয় দলের এই শ্বাসরুদ্ধকর ও রোমাঞ্চকর জয় উদযাপনে মেতে উঠেছেন।
|