দেশের চার বিভাগে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা: পানি উন্নয়ন বোর্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে দেশজুড়ে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে টানা কয়েক দিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। এই ভারী বর্ষণের ফলে দেশের চার বিভাগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি আগামী তিন দিনে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। এর প্রভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর অন্তত ১৫টি জেলায় স্বল্পমেয়াদি ও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। আজ বুধবার (৮ জুলাই) প্রাতিষ্ঠানিক সূত্রে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। তবে তিন দিন পর, অর্থাৎ আগামী শনিবার থেকে এই পরিস্থিতির সামগ্রিক উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও সূত্রটি আশ্বস্ত করেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিম্নচাপের প্রভাবে গত তিন দিন ধরে দেশের প্রায় সর্বত্রই মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হচ্ছে। কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টির পরিমাণ ২৪ ঘণ্টায় ২০০ মিলিমিটারও ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে গতকাল চট্টগ্রাম বিভাগে রেকর্ড ভাঙা ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা জনজীবনকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে এই ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে এবং বৃষ্টির এই ধারা আগামী শনিবার পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
টানা এই বৃষ্টির প্রভাবে ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের পাহাড়ি ও সীমান্ত সংলগ্ন কয়েকটি নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিনে এই নদীগুলোর পানি আরও বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নিয়মিত বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর-পূর্ব, পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, ফেনী, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু নিচু এলাকার নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
সংস্থার নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান আজ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে যাচ্ছে, তা মূলত স্বল্পমেয়াদি এবং তা সর্বোচ্চ তিন দিন স্থায়ী হতে পারে। এর পর থেকে, অর্থাৎ আগামী শনিবার থেকে বৃষ্টিপাত কমে আসার সাথে সাথে বন্যা পরিস্থিতির ক্রমান্বয়ে উন্নতি হতে পারে।’
যদিও আশার কথা হচ্ছে, বর্তমানে দেশের সব প্রধান ও বড় নদীগুলোর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী এবং সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরাসহ পাহাড়ি উজান এলাকাগুলোতেও ব্যাপক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী চার দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং সংলগ্ন ভারতীয় উজান এলাকায় সমপরিমাণ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে পাহাড়ি ঢল নামার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বিশেষভাবে সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশের অন্যতম প্রধান নদী তিস্তা আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যেকোনো মুহূর্তে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একই সঙ্গে সুরমা, কুশিয়ারা, গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, দুধকুমার ও ধরলাসহ কয়েকটি ছোট-বড় নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে, যা নিম্নাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন করে বন্যার আতঙ্ক তৈরি করেছে। স্থানীয় প্রশাসনকে ইতিমধ্যে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
|