গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় দুই শিশুসহ নিহত ৭
অনলাইন ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করে নৃশংস সামরিক হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। গত মঙ্গলবার দিনভর গাজার মধ্য, উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা এবং সরাসরি গোলাবর্ষণে দুই শিশুসহ অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই পৃথক হামলায় নারী ও শিশুসহ আরও অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা কবরস্থানের পাশে হামলা চালিয়ে একজনকে হত্যা করা হয়। পাশাপাশি ওয়াদি গাজা এলাকায় ইসরায়েলি সেনার গুলিতে প্রাণ হারায় এক ফিলিস্তিনি শিশু।
উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি ড্রোনের আঘাত ও গাজা শহরের জেইতুন এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে আরও দুজন প্রাণ হারান। সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালের কাছে, যেখানে একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি অ্যাটাক হেলিকপ্টার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই এক ফিলিস্তিনি দম্পতি নিহত হন এবং তিন নারীসহ চারজন আহত হন। এ ছাড়া দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের কাছে কিজান আবু রাশওয়ান এলাকায় গুলিতে আরও এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের তণ্ডব নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গত শনিবার তাইবেহর কাছে বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের গাড়িবহরে অস্ত্রধারী ও মুখোশপরা উগ্র বসতি স্থাপনকারীরা অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
এই চরম কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনের ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং কানাডা তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ এ ঘটনাকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে আখ্যা দেন। পরিস্থিতির চাপে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী এই হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১০ জন বসতি স্থাপনকারীকে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হয়েছে। ঘটনাটির প্রতিবাদে জেরুজালেমে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন দেশটির সাবেক কূটনীতিকরা।
সকালবেলা / নুসরাত