গাজীপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও জোরপূর্বক জিডিতে স্বাক্ষরের অভিযোগ
রেজাউল করিম মজুমদার (গাজীপুর প্রতিনিধি): গাজীপুরের কাশিমপুর থানার সামনে থানা পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) সঙ্গে এক যুবদল নেতার তুমুল বাগ্বিতণ্ডা ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী যুবদল নেতার অভিযোগ, ওই পুলিশ কর্মকর্তা একটি সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়েছেন, বাদীপক্ষের সম্মতি ছাড়া মামলা নথিভুক্ত করেছেন এবং তার কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছেন।
আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) কাশিমপুর থানার প্রধান ফটকের সামনে প্রকাশ্যেই এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগকারী নেতার নাম হারুন অর রশিদ। তিনি স্থানীয় যুবদলের একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা হলেন কাশিমপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) উজ্জ্বল।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, একটি চলমান বিরোধ বা অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে থানায় যান যুবদল নেতা হারুন অর রশিদ। সেখানে জিডি ও মামলা দায়ের সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন এসআই উজ্জ্বলের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে হারুন অর রশিদ থানার সামনে এসে এসআই উজ্জ্বলকে লক্ষ্য করে চিৎকার করে ঘুষ দাবির অভিযোগ তুলতে থাকেন।
হারুন অর রশিদের অভিযোগ, "এসআই উজ্জ্বল ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমার কাছ থেকে সরাসরি ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছেন। শুধু তাই নয়, আমাদের অসম্মতি থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক একটি জিডিতে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে এবং মূল বাদীপক্ষের কোনো প্রকার সম্মতি বা অনুমতি ছাড়াই একটি মামলা নথিভুক্ত রেকর্ড করা হয়েছে।" এই অনিয়মের প্রতিবাদ করায় পুলিশের পক্ষ থেকে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয়দের সামনে ঘুষ দাবি এবং জোরপূর্বক জিডিতে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন এসআই উজ্জ্বল। তিনি নিজের স্বপক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, "আইন অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই থানায় ডায়েরি ও মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। ঘুষ দাবির অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুলিশের আইনি কাজে বাধা সৃষ্টি করা এবং পুলিশকে মানসিকভাবে চাপে ফেলার জন্যই থানার সামনে এমন হট্টগোল ও মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।"
থানার সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতার এমন মারমুখী বাগ্বিতণ্ডার বিষয়ে কাশিমপুর থানা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি বা জোরপূর্বক কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো অনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়ে থাকলে তাও খতিয়ে দেখা হবে।
প্রকাশ্য দিবালোকে থানার সামনে এমন উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং পুলিশের পেশাদারিত্ব নিয়ে স্থানীয় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
এআইএল/সকালবেলা