কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের বার্তা

প্রকাশ: রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৩ অপরাহ্ণ
কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের বার্তা
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই।

আঞ্চলিক সামরিক সংকট ও উত্তেজনার আবহেই প্রতিবেশী কয়েকটি আরব দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে পবিত্র কোরআনের বাণী উদ্ধৃত করে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান।

আজ রোববার (২ আগস্ট) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এক বিবৃতিতে জানান, যারা কথায় কথায় মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র বাণী উদ্ধৃত করেন, তাঁদের আগে নিজেদের সরকারের নীতি ও কাজ ইসলামের মৌল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—তা গভীরভাবে বিবেচনা করা উচিত।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ (IRNA)-এর প্রতিবেদনে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি সামাজিক পোস্টে বাঘেই উল্লেখ করেন, ইরান কোনো সাধারণ ভূখণ্ড নয়; বরং এটি একটি প্রাচীন ও বৈচিত্র্যময় সভ্যতার দেশ। ইসলাম গ্রহণের পর ফিকহ, দর্শন, আধুনিক বিজ্ঞান, গণিত ও সাহিত্যে ফার্সি সভ্যতা ইসলামি বিশ্বকে সমৃদ্ধ করেছে।

তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন—

‘হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাবান, যে অধিক আল্লাহ-ভীরু। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু জানেন, সবকিছুর খবর রাখেন।’

ইসমাইল বাঘেই জোর দিয়ে বলেন, কেবল আরবি ভাষাভাষী হওয়া কিংবা কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিচয় কোনো শাসককে মহানবি (সা.)-এর আদর্শের একমাত্র প্রতিনিধি বানায় না। রাষ্ট্রপরিচালনায় ও পররাষ্ট্রনীতিতে জালিম বা আগ্রাসী শক্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়া কোনোভাবেই সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের মধ্যে পড়ে না।

তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন, “একটি মুসলিম দেশের ওপর একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যাওয়া সাম্রাজ্যবাদী শক্তির (যুক্তরাষ্ট্র) সাথে হাত মেলানো কিংবা মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রুদের নিজের ভূখণ্ডে আশ্রয় ও সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দেওয়া কি ইসলামের ন্যায়বিচার ও ঐক্যের সঙ্গে মেলানো সম্ভব?”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাহরাইনের বাদশাহ হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়ে ইরানের উদ্দেশ্যে মহানবি (সা.)-এর শিক্ষা ও ঐতিহ্যের দোহাই দিয়েছিলেন। তারই জবাবে এই কড়া বার্তা দিল তেহরান।

প্রসঙ্গত, চলতি জুলাইয়ের শুরু থেকে ইসলামাবাদ সমঝোতা লঙ্ঘনের অজুহাতে দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে সামরিক হামলা চালাচ্ছে, যার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে নিয়মিত মিসাইল ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে।

মন্তব্য করুন