ভেনেজুয়েলার জোড়া ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ৩৩৪২, গৃহহীন ১৭ হাজার

প্রকাশ: সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
ভেনেজুয়েলার জোড়া ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ৩৩৪২, গৃহহীন ১৭ হাজার

অনলাইন ডেস্ক: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সাম্প্রতিক ভয়াবহ ও প্রলয়ঙ্কারী জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা এক লাফে বেড়ে ৩ হাজার ৩৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় উদ্ধার অভিযান যতই এগোচ্ছে, মৃতের সংখ্যা ততই দীর্ঘ হচ্ছে।

গত রবিবার (৫ জুলাই) ভেনেজুয়েলার তথ্য মন্ত্রণালয় দেশের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির এই নতুন অফিসিয়াল ডাটা প্রকাশ করে। সরকারি এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জোড়া ভূমিকম্পের পর দেশটিতে মোট আহতের সংখ্যা ১৬ হাজার ৪৭০ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বহু বহুতল ভবন ও ঘরবাড়ি মাটির সাথে মিশে যাওয়ায় বর্তমানে গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ১৭ হাজার ৩৪৫ জনে ঠেকেছে। খোলা আকাশের নিচে ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।

এদিকে, এই চরম সংকটের মাঝেই গত রবিবার ভেনেজুয়েলার ২১৫তম ঐতিহাসিক স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ও আবেগঘন ভাষণে দেশটির বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের পক্ষে জোরালো সাফাই গেয়েছেন।

তিনি তাঁর ভাষণে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে জানান, ভূমিকম্প আঘাত হানার পরপরই তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে দুর্গত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় মোতায়েন করেছেন। একই সাথে ভবিষ্যতে এই ধরণের বড় কোনো জরুরি প্রয়োজন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ আরও দ্রুত ও পেশাদারিত্বের সাথে মোকাবেলা করার জন্য ভেনেজুয়েলা সামরিক বাহিনীর অধীনে সম্পূর্ণ নতুন একটি বিশেষায়িত ‘দুর্যোগ মোকাবেলা ইউনিট’ গঠন করার কথা ঘোষণা করেছেন।

প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এমন এক সময়ে এই বিশেষ ইউনিট গঠন ও সরকারি তৎপরতার কথা জানালেন, যখন ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার অভিযান এবং আক্রান্ত মানুষদের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য, চিকিৎসা ও জরুরি ওষুধ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সরকারের চরম অপর্যাপ্ত পদক্ষেপ, সমন্বয়হীনতা ও ধীরগতি নিয়ে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র হতাশা এবং ক্ষোভ দিন দিন চরম আকার ধারণ করছে। বিরোধী রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় সামাজিক সংস্থাগুলো দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে সরকারের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করে আসছে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য নিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে।

মন্তব্য করুন