ভারতে ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে ১০ মৃত্যু, মুম্বাই-পুনে মহাসড়ক বন্ধ

প্রকাশ: সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ভারতে ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে ১০ মৃত্যু, মুম্বাই-পুনে মহাসড়ক বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক: ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই, পুনে এবং এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে রেকর্ড পরিমাণ ভারী বর্ষণ ও প্রকৃতির তাণ্ডবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনের একটানা মুষলধারে বৃষ্টি এবং তার জেরে সৃষ্ট একাধিক ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এবং বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকায় ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) মুম্বাই, পুনে, থানে, রায়গড় এবং পালঘরের জন্য সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’ (লাল সতর্কতা) জারি করেছে।

আজ সোমবার (৬ জুলাই) ভোররাতে কারজাত এবং লোনাভালার মধ্যবর্তী ভোর ঘাট অংশে একাধিক বড় ধরনের ভূমিধসের কারণে মুম্বাই-পুনে লাইনের মূল রেল করিডোর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাহাড় থেকে বিশালাকার পাথর ও মাটির ধ্বংসাবশেষ ধসে পড়ায় তিনটি প্রধান রেললাইনই সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে এই রুটে চলাচলকারী ডেকান কুইন, ইন্দ্রায়ণী এক্সপ্রেস, ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, ডেকান এক্সপ্রেস এবং সিংহগড় এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল অথবা বিকল্প পথে পাঠাতে বাধ্য হয়েছে সেন্ট্রাল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রতিকূল আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির মধ্যেও রেলওয়ের বিশেষ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পরিষ্কার ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে শুধু রেল নয়, ভূমিধসের কারণে মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ে এবং পুরোনো মুম্বাই-পুনে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই দুই মেগাসিটির মধ্যকার সড়ক যোগাযোগও সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের টানেল-২-এর কাছে একটি বিশাল পাহাড় ধসে পড়ায় মুম্বাইমুখী পুরো সড়কটি ধ্বংসস্তূপে ঢেকে গেছে। একই সময়ে আকস্মিক বন্যার কারণে মাভাল ও তামহিনি ঘাট হয়ে যাওয়া বিকল্প সড়কগুলোও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এই রুটে ভ্রমণ সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার কড়া পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু: ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মুম্বাই মহানগর ও এর আশেপাশে অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে মানখুর্দে, সেখানে একটি তিনতলা জরাজীর্ণ চাওল (বস্তি) ভবন ধসে পড়ে ৬ জন নিহত হন। অন্যদিকে কুরলায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি দোকানের ওপর বিশাল গাছ ভেঙে পড়লে ৬৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। এছাড়া চেম্বুরে একটি চলন্ত স্কুলবাসের ওপর গাছ উপড়ে পড়ে ১১ বছর বয়সী এক নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সাকি নাকায় বন্যার পানিতে ঢেকে থাকা একটি খোলা ম্যানহোলে অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়ে একজনের সলিলসমাধি ঘটেছে। অন্যদিকে খারঘরের প্রশাসন কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত পান্ডাভকাড়া জলপ্রপাতের তীব্র স্রোতে ডুবে পিকনিক করতে যাওয়া দুই তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন।

স্কুল-কলেজ বন্ধ, ট্রেন চলাচলে ধীরগতি: মুম্বাইয়ের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত উপশহরীয় (লোকাল) রেল চলাচল কোনোমতে চালু রাখা হলেও ট্র্যাকের ওপর জলাবদ্ধতার কারণে ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশ দেরিতে চলছে। সেন্ট্রাল রেলওয়ের ট্রেনগুলো ৬ থেকে ৮ মিনিট এবং ওয়েস্টার্ন রেলওয়ের লোকাল ট্রেনগুলো ১০ থেকে ১৫ মিনিট বিলম্বে চলাচল করছে।

চরম প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মুম্বাই, পুনে, থানে ও নবি মুম্বাইয়ের সমস্ত স্কুল-কলেজে আজকের জন্য জরুরি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মুম্বাইয়ের ঐতিহ্যবাহী খাবার সরবরাহকারী ‘ডাব্বাওয়ালারাও’ আজকের দিনের জন্য তাদের সেবা সম্পূর্ণ স্থগিত রেখেছে। এদিকে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এবং যেকোনো বড় বিপদ এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ স্পটগুলোতে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) একাধিক টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন