খামেনির জানাজায় ট্রাম্পের মাথার দাম ১০ কোটি ডলার ঘোষণা

প্রকাশ: সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ণ
খামেনির জানাজায় ট্রাম্পের মাথার দাম ১০ কোটি ডলার ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক: ইরানের রাজধানী তেহরানে গতকাল রবিবার মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত দেশের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এই জানাজাকে কেন্দ্র করে পুরো তেহরান শহর লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। তবে জানাজার ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যকে ছাপিয়ে সেখানে উপস্থিত জনতার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও ‘হত্যার’ স্লোগান প্রতিধ্বনিত হয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় ট্রাম্পের মাথার দাম ১০ কোটি ডলার ঘোষণা করে ব্যানারও প্রদর্শন করেছে ক্ষুব্ধ জনতা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড মোসাল্লা ময়দান থেকে জানান, জানাজায় উপস্থিত মানুষের মধ্যে শোকের চেয়েও মার্কিন-ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিশোধের আগুন বেশি দেখা গেছে। জানাজা শুরুর আগে থেকেই চারদিক থেকে ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ (ডেথ টু আমেরিকা) এবং ‘ইসরায়েল ধ্বংস হোক’ স্লোগানে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, জানাজায় অংশ নেওয়া হাজার হাজার মানুষের হাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘হত্যাকাণ্ডের লক্ষ্যবস্তু’ (টার্গেট) হিসেবে উপস্থাপন করা প্রতীকসংবলিত নানামুখী ছবি ও ব্যানার রয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর একটি ব্যানারে ইংরেজি ও ফারসি ভাষায় লেখা ছিল, ওয়ান্টেড (পলাতক অপরাধী)। পুরস্কার ১০ কোটি ডলার। ট্রাম্প! ইরানের জনগণ শিগগিরই আপনাকে হত্যা করবে। ঠিক একই ধরনের আরেকটি বিশালাকার ব্যানার তেহরানের একটি প্রধান সড়কের পাশেও ঝুলিয়ে দিতে দেখা গেছে। সেখানে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখাবয়বের অংশে তীব্র ক্ষোভে পথচারীদের লাথি মারতে এবং লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করতে দেখা যায়।

জানাজার নামাজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে সমবেত কোটি জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দেন ইরানের প্রখ্যাত বিপ্লবী কবি মোহাম্মদ রাসুলি। তিনি বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আলী খামেনির মতো পবিত্র আত্মাকে বিদায় দিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্টতম মানুষটি (ট্রাম্প) এখনও কেন এই পৃথিবীতে বেঁচে আছে?’ তাঁর এই আবেগঘন বক্তব্যের পর উপস্থিত জনতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফাঁসি ও হত্যার দাবিতে চিৎকার শুরু করে।

এদিন জানাজার নামাজে অংশ নিতে অনেক মানুষ আগের দিন সারারাত মোসাল্লা প্রাঙ্গণে ও মসজিদে অবস্থান করেন। আবার অনেকেই ভোরের আলো ফোটার আগে পায়ে হেঁটে এসে উপস্থিত হন যাতে সকাল ৮টার মূল জানাজায় অংশ নিতে পারেন। এ সময় ইরানের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি শিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘প্রতিশোধের প্রতীক’ হিসেবে পরিচিত রক্তলাল পতাকা হাতে লাখো মানুষকে খামেনির ছবি বহন করতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক আকস্মিক ও শক্তিশালী যৌথ বিমান হামলায় দীর্ঘ চার দশক ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। একই হামলায় তাঁর মেয়ে, জামাতা, ১৪ মাস বয়সী এক নিষ্পাপ নাতনি এবং খামেনির পুত্র তথা বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির স্ত্রীও প্রাণ হারান। নিজের পুরো পরিবারকে হারানোর এই দগদগে ক্ষত নিয়ে ইরান এখন পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে এক বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিশোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।

মন্তব্য করুন