দিনাজপুরে বিজিবির অভিযানে ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার প্রত্নসম্পদ জব্দ

প্রকাশ: সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৩০ অপরাহ্ণ
দিনাজপুরে বিজিবির অভিযানে ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার প্রত্নসম্পদ জব্দ
দিনাজপুরে বিজিবির বিশেষ অভিযানে উদ্ধার হওয়া কোটি টাকা মূল্যের দুষ্প্রাপ্য কষ্টিপাথর ও বেলে পাথরের প্রাচীন মূর্তি (ফাইল ছবি)।

দিনাজপুরে পৃথক দুটি বিশেষ অভিযানে আন্তর্জাতিক বাজারে কোটি টাকা মূল্যের তিনটি দুষ্প্রাপ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার হওয়া এই অমূল্য প্রত্নবস্তুর মধ্যে রয়েছে একটি বিশাল কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ, একটি কষ্টিপাথরের প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি এবং একটি বেলে পাথরের তৈরি মনসা মূর্তি।

বিজিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক চোরাকারবারি চক্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচারের আগেই অত্যন্ত নিখুঁত ও সময়োপযোগী অভিযান পরিচালনা করে এই মূল্যবান প্রত্মসম্পদগুলো রক্ষা করা হয়েছে। আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকালে বিজিবির দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিজিবির পাঠানো অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৫ জুলাই দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের সরাসরি নেতৃত্বে বিজিবি ও স্থানীয় থানা পুলিশের একটি যৌথ দল পার্বতীপুর উপজেলার মালিপাড়া এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। ওই এলাকার একটি বাড়ি থেকে তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ১৩৯ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি অতি দুষ্প্রাপ্য কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে একই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন ভোর ৫টার দিকে কাহারোল উপজেলার ইছাইল এলাকায় পৃথক আরেকটি সফল অভিযান চালায় বিজিবির টহল দল। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ১৩ কেজি ওজনের একটি প্রাচীন কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি এবং ৯ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি অত্যন্ত মূল্যবান বেলে পাথরের মনসা মূর্তি উদ্ধার করতে সক্ষম হন বিজিবি সদস্যরা।

উদ্ধারকৃত প্রত্নসম্পদগুলোর সত্যতা ও প্রাচীনত্ব নিশ্চিত করতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হয় বিজিবি। কর্তৃপক্ষ যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে উদ্ধার হওয়া তিনটি প্রত্নবস্তুই ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন বলে নিশ্চিত করেছেন। বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া তিনটি প্রত্নবস্তুর মোট সরকারি সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক প্রাচীনত্ব বিবেচনায় বিশ্ববাজারে এসব নিদর্শনের প্রকৃত মূল্য আসলে অপরিমেয় ও অমূল্য বলে জানিয়েছে বিজিবি।

সাফল্যমণ্ডিত এই অভিযান প্রসঙ্গে দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দেশের প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং মূল্যবান প্রত্ন-সম্পদ পাচার প্রতিরোধে বিজিবির গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক এমন ঝটিকা ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।’

তিনি আরও দৃঢ়তার সাথে যোগ করে বলেন, ‘শুধু প্রত্নসম্পদই নয়, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক চোরাচালান, মানবপাচার, অবৈধ অস্ত্র ও অন্যান্য যেকোনো ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনেও বিজিবি সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি ও সর্বোচ্চ তৎপরতা বজায় রাখবে।’

মন্তব্য করুন