ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

প্রকাশ: সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:১৫ অপরাহ্ণ
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি আবাসিক ভবনে উদ্ধারকারীদের তৎপরতা (ফাইল ছবি)

অনলাইন ডেস্ক: ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ভয়াবহ ও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রুশ সামরিক বাহিনীর এই আকস্মিক ও শক্তিশালী হামলায় কিয়েভে অন্তত ১১ জন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং আরও ৪৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

আজ সোমবার (৬ জুলাই) কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কোর বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

তিমুর তকাচেঙ্কো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানান, কিয়েভের ওপর রুশ হামলার পর থমথমে পরিস্থিতির মধ্যে শহরের ২০টিরও বেশি স্পটে জরুরি উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। রাশিয়ার ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত দুটি ঘনবসতিপূর্ণ জেলায় বহুতল আবাসিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বহুল প্রতীক্ষিত ন্যাটো (NATO) শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে যখন ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, ঠিক তখনই এই হামলা চালাল মস্কো। উল্লেখ্য, এই সম্মেলনের ফাঁকেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিশেষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

ভয়াবহ এই হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেছিলেন, পূর্বের প্রাণঘাতী হামলার পর মস্কো কিয়েভে আরও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার কিয়েভে রাশিয়ার অপর এক হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছিলেন।

কিয়েভের জনপ্রিয় মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রাশিয়ার আধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শহরের বিভিন্ন কৌশলগত ও বেসামরিক স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানে। এতে একাধিক আবাসিক ভবনে মুহূর্তের মধ্যে আগুন লেগে যায়। পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদের কয়েকটি গুদামঘর এবং একটি গ্যারেজ ওয়ার্কশপও এই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

কিয়েভের পাশাপাশি গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ঝাপোরিঝঝিয়া শহরেও দুটি শক্তিশালী রুশ গাইডেড বোমা হামলা চালানো হয়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, সেখানে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত এবং আরও দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। এছাড়া দুই নিষ্পাপ শিশুসহ অন্তত ১৩ জন সাধারণ নাগরিক চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আঞ্চলিক গভর্নরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝাপোরিঝঝিয়ার ওই হামলায় অসংখ্য ব্যক্তিগত বাড়িঘর এবং অন্তত ৩৫টি বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে, চলমান যুদ্ধের মধ্যেই পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ানতিনিভকা পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে আবারও জোরালো দাবি করেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মস্কোর পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত ইউক্রেনীয় সেনাদের মরদেহ সসম্মানে হস্তান্তরের জন্য তারা ইউক্রেনকে ৬ ঘণ্টার একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু কিয়েভ প্রশাসন তাতে কোনো সাড়া দেয়নি।

ক্রেমলিনের প্রভাবশালী মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই বিষয়ে বলেন, সীমান্তবর্তী রুশ অঞ্চলগুলোর স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউক্রেন সীমান্তজুড়ে রুশ সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে একটি ‘বাফার জোন’ গড়ে তোলা হচ্ছে। তাঁর দাবি, খারকিভ, সুমি ও দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের কিছু অংশে ধাপে ধাপে এই বাফার জোন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই বাফার জোন পরিকল্পনার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তবে ক্রেমলিনের কস্তিয়ানতিনিভকা দখল ও বাফার জোনের এই দাবি সরাসরি ও সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, কস্তিয়ানতিনিভকার বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববাসীকে ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করতে সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য (প্রোপাগান্ডা) ছড়াচ্ছে মস্কো। শহরটি এখনও ইউক্রেনীয় বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধে অক্ষত রয়েছে।

মন্তব্য করুন