আওয়ামী সরকার ধর্মের নামেও লুটপাট করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংসদ রিপোর্টার: বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে মডেল মসজিদ নির্মাণের নামে মেগা দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ লোপাট করা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “ইসলাম ও মসজিদের পবিত্র নাম ব্যবহার করে তারা যে অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। প্রতিটি মডেল মসজিদের নির্মাণ ব্যয় ১৩ কোটি থেকে বাড়িয়ে ২১ কোটি টাকা কীভাবে করা হলো, তা মসজিদওয়ারি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হবে।”
আজ সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদীন ফারুকের একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এই সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে সংসদ সদস্য জয়নুল আবদীন ফারুক অভিযোগ করেন, বিগত ১৬ বছরে একেকটি মডেল মসজিদের বাজেট ১৩ কোটি থেকে বাড়িয়ে ২১ কোটি টাকা করা হলেও সেগুলোর কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। তিনি বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকা সেনবাগের মডেল মসজিদে এখন ঢোকাই যায় না, উপর থেকে পানি পড়ে। এই অর্থ অপচয় ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।”
তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালও নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, “সেনবাগের চেয়ে আমার এলাকার দুর্গাপুর মডেল মসজিদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। সামনে একটা বিশাল পুকুর, তার পেছনে মসজিদ। সেখানে যেতে হলে আলাদা ব্রিজ করতে হবে। স্থানীয় মানুষ এর নাম দিয়েছে ‘দুর্গাপুরের তাজমহল’।”
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময়ে প্রতিটি প্রকল্পই নেওয়া হয়েছিল মূলত অর্থ লোপাটের উদ্দেশ্যে। অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের শ্বেতপত্রেও স্পষ্ট এসেছে যে, মেগা দুর্নীতির স্বার্থেই মেগা বাজেট ও মেগা প্রকল্প সাজানো হতো। প্রকল্পগুলোর মেয়াদ ৫ থেকে ৭ বছর বাড়িয়ে প্রাক্কলিত ব্যয় কয়েক গুণ বৃদ্ধি করা হতো। এই দুর্নীতি করার মানসিকতা শুরুতেই প্রাক্কলনের (এস্টিমেট) ভেতরে ঢুকে যায়। মডেল মসজিদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।” তিনি আশ্বস্ত করেন, এই দুর্নীতির পেছনে সরকারের অন্য কোনো সংস্থাও জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রতিটি মসজিদের আলাদা তদন্ত হবে।
এদিকে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রীর লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত ওয়াক্ফ সম্পত্তির পরিমাণ ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫০ দশমিক ৯৮ একর। এর মধ্যে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে এ পর্যন্ত ২৭ দশমিক ৫৩ একর সম্পত্তি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এ ছাড়া নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৬৮৩ জন ইমাম, ৪ হাজার ৩১২ জন মুয়াজ্জিন, ৩ হাজার ৭৮৪ জন খাদেম, ৫৮৬ জন পুরোহিত, ৪২২ জন সেবাইত এবং ১৬২ জন বৌদ্ধ ধর্মীয় অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষসহ মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে সরকারি তহবিল থেকে সম্মানী প্রদান করা হয়েছে।
এআইএল/সকালবেলা
|