সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী
সংসদীয় প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদে নিজের সাম্প্রতিক এক মন্তব্য নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই দুঃখ প্রকাশ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে আঘাত করতে কিছু বলিনি। তারপরও আমার বক্তব্যে কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে সেজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।" মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর উপস্থিত সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাঁর এই আন্তরিক দুঃখ প্রকাশকে স্বাগত জানান।
এর আগে সংসদে স্পিকারের মাধ্যমে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপন করে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, এইচএসসির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষার ওপর শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। এমন পরিস্থিতিতে পদার্থবিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাটি কেন এক বা দুই দিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়া গেল না, তা তিনি মন্ত্রীর কাছে জানতে চান।
রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। চট্টগ্রামে বন্যার কারণে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়িসহ পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। তবে অন্যান্য জায়গায় পরিস্থিতি সরকারের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ছিল। দেশের ৬৪ জেলার এসপি, আটটি বিভাগীয় কমিশনার, প্রতিটি বোর্ডের চেয়ারম্যান, ইউএনও এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়েছিল। তারা সবাই পরিস্থিতি অনুকূলে থাকার আশ্বাস দেওয়ায় বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অপেক্ষা করে যথাসময়ে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাসের বরাত দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "সবাই বলেছিল আবহাওয়া ভালো থাকবে। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি কুমিল্লা সরকারি কলেজের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষাকেন্দ্র স্থানান্তরের নির্দেশ দিই। দেশের অন্যান্য জেলা প্রশাসক ও ইউএনওরা জানিয়েছেন, কোথাও পরীক্ষা ঘিরে কোনো বড় দুর্যোগ ঘটেনি। কেবল কুমিল্লা মহিলা কলেজেই এমন জলজট তৈরি হয়েছিল।" তিনি আরও জানান, যে নারী পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে গিয়েছিল, তাঁর জন্য শুকনো কাপড়ের ব্যবস্থা করে এক ঘণ্টা পর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার সময়সীমাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, একটি প্রশ্ন মডারেশনের প্রক্রিয়া অন্তত দুই বছর আগে থেকে শুরু করতে হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে মাত্র চার মাস; ফলে এই প্রশ্নগুলো বিগত সরকারের আমলের মডারেটরদের তৈরি। তবুও, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকার বিষয়টি চিহ্নিত হওয়ামাত্র পরীক্ষার্থীদের ওই দুটি প্রশ্নের জন্য পূর্ণ নম্বর (ফুল ক্রেডিট) দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এআইএল/সকালবেলা
|