জাপানের বিপক্ষে ম্যাচকে কেন ‘ফাইনাল’ মনে করছেন ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি?

প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
জাপানের বিপক্ষে ম্যাচকে কেন ‘ফাইনাল’ মনে করছেন ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি?
অনুশীলনে সিরিয়াস মুডে ব্রাজিল ফুটবল দল (ফাইল ছবি)

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের যেকোনো ম্যাচের সমীকরণই সরল ও নিষ্ঠুর— হারলেই টুর্নামেন্ট থেকে চিরতরে বিদায়, আর জিতলে পরের রাউন্ডের টিকিট। এমন বাঁচা-মরার লড়াইয়ে নামার আগে মানসিক ও কৌশলগত প্রস্তুতিও তাই সারতে হয় শতভাগ নিখুঁতভাবে। গতকাল রাতে কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে গড়িয়েছে এবারের বিশ্বকাপের শেষ ৩২ দলের রাউন্ড বা নকআউট পর্ব।

আজ সোমবার (২৯ জুন) এই পর্বে এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি জাপানের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটির আগে সংবাদ সম্মেলনে জাপান বধের লড়াইকে সাধারণ ম্যাচের চেয়ে অনেক উঁচুতে রেখে একে ‘ফাইনাল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন ব্রাজিলের অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তি। কিন্তু কেন তিনি এই ম্যাচকে ফাইনালের সঙ্গে তুলনা করলেন, সেই কারণও স্পষ্ট করেছেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড।

মূলত নকআউট পর্বের মরণপণ সমীকরণ ও মাঠের স্নায়ুচাপের কারণেই একে ফাইনালের মর্যাদা দিচ্ছেন আনচেলত্তি। এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “পুরো দলই এখন ম্যাচ নিয়ে ভীষণ মনোযোগী এবং সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি। ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে কিংবা পেনাল্টি শুটআউট হলে— আমরা সবদিক থেকেই নিজেদের প্রস্তুতি নিখুঁত করে রেখেছি। আর এই কারণেই ম্যাচটি আমাদের কাছে ফাইনালের মতোই।” অর্থাৎ, ফাইনাল ম্যাচে যেমন ট্রফি জয়ের জন্য পেনাল্টি কিংবা অতিরিক্ত সময়ের জন্য মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হয়, জাপানের বিপক্ষেও ঠিক একই মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামছে সেলেসাওরা।

তবে ‘ফাইনাল’ খেলার বড় অভিজ্ঞতা ব্রাজিল দলের বেশিরভাগ ফুটবলারেরই রয়েছে। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে এ ধরনের হাই-ভোল্টেজ নকআউট ম্যাচ তারা নিয়মিত খেলেন। খেলোয়াড়দের সেই চেনা আত্মবিশ্বাসকেই এবার বিশ্বকাপের বিশ্বমঞ্চে কাজে লাগাতে চান আনচেলত্তি। এই লক্ষ্যে মাঠের লড়াইয়ে দলের ভেতর ‘মন, হৃদয় ও পরিষ্কার ভাবনার’ এক নিখুঁত সমন্বয় খুঁজছেন ব্রাজিল কোচ।

দলের অভিজ্ঞ ফুটবলারদের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে এক গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমরা সৌভাগ্যবান যে আমাদের স্কোয়াডে এমন কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে, যারা এ ধরনের বড় ম্যাচের মানসিক চাপ কীভাবে সামলাতে হয়, তা খুব ভালো করেই জানে। এদিক থেকে আমি পুরোপুরি নিশ্চিন্ত।” তবে প্রতিপক্ষ জাপানকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না তিনি। সমীহ জানিয়ে এক গণমাধ্যমকে বলেন, “জাপান এমন একটা দল, যাদেরকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে এবং আমরা মাঠের লড়াইয়ে তা করবও।”

উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে কিছুটা হোঁচট খেয়েছিল ব্রাজিল। তবে পরের দুই ম্যাচে হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে পরপর ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই দ্বিতীয় রাউন্ডে পা রাখে সেলেসাওরা। যেখানে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। অন্যদিকে, তিউনিসিয়াকে হারালেও নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের সঙ্গে ড্র করে গ্রুপে রানার্সআপ হয়ে এই পর্বে এসেছে জাপান।

বিশ্বকাপের শুরুতে ব্রাজিলের ছন্দ নিয়ে কিছুটা সমালোচনা হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের খেলায় যে দারুণ উন্নতি হয়েছে, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন দলটির অধিনায়ক মার্কিনিওস। একটি গণমাধ্যমকে তিনি জানান, “টুর্নামেন্টের শুরুতে আমরা হয়তো আমাদের সেরা ফর্মে ছিলাম না, তবে আমাদের খেলায় প্রতিনিয়ত উন্নতি হচ্ছে। শুরুতে আমাদের যে অবস্থা ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে আমরা এখন নকআউট পর্বে পা রাখছি।”

মন্তব্য করুন