২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ গ্রুপ পর্বে রেকর্ডের ছড়াছড়ি

প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ গ্রুপ পর্বে রেকর্ডের ছড়াছড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল মাঠের লড়াই শুরুর পর থেকেই একের পর এক নতুন নজির আর রোমাঞ্চের জন্ম দিয়ে চলেছে। ফুটবল ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ ৪৮টি দল নিয়ে পর্দা উঠেছে এই বৈশ্বিক আসরের। টানা ১৭ দিনে মোট ৭২টি ম্যাচের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো গ্রুপ পর্বের খেলা। গ্যালারিতে ধারণাতীত দর্শক উপস্থিতি, ফুটবলারদের চোখধাঁধানো ব্যক্তিগত অর্জন এবং মাঠে ঘটে যাওয়া অনবদ্য সব ঘটনার কারণে ইতোমধ্যেই ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে এবারের আসর।

২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেই ফুটবল বিশ্ব যেসব নতুন রেকর্ডের সাক্ষী হয়েছে, তার একটি বিশদ বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

 এবারের বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশ নেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের সংখ্যা ছিল বিশাল। শুধু গ্রুপ পর্বেই মাঠে গড়িয়েছে ৭২টি ম্যাচ, যা সম্পন্ন করতে আয়োজকদের সময় লেগেছে টানা ১৭ দিন। এর আগের ৩২ দলের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে মাত্র ৪৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতো এবং তা মাত্র ১২ থেকে ১৩ দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যেত।

 স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দর্শক উপস্থিতির দিক থেকেও নতুন ইতিহাস গড়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। এর আগে ১৯৯৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মোট ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৮ জন দর্শকের উপস্থিতিই ছিল সর্বোচ্চ রেকর্ড। দীর্ঘ ৩২ বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে এবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো গ্যালারিতে বসে উপভোগ করেছেন ৩৬ লাখ ৫ হাজার ৩৫৭ জন দর্শক।

 মেক্সিকো সিটির ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক ‘এস্তাদিও অ্যাজটেকা’ স্টেডিয়াম আবারও ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য চূড়ায় পা রাখল। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালের পর ২০২৬ বিশ্বকাপেরও উদ্বোধনী ম্যাচ সফলভাবে আয়োজন করেছে এটি। এর ফলে ফুটবল ইতিহাসে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনকারী একমাত্র স্টেডিয়াম হিসেবে এককভাবে রেকর্ড বুকে নাম লেখালো অ্যাজটেকা।

 বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার লড়াইয়েও তৈরি হয়েছে অন্যরকম এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড। বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এবারই প্রথম উদ্বোধনী কোনো ম্যাচে একসঙ্গে ৩ জন ফুটবলার লাল কার্ড (নির্বাসন) দেখে মাঠ ছেড়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার স্পেফেলো সিটহোল ও থেম্বা জোয়ানে এবং মেক্সিকোর সিজার মোন্তেস রেফারি কর্তৃক লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।

 নিজের ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য ফর্মে রয়েছেন আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর লিওনেল মেসি। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে চোখধাঁধানো গোল করে তিনি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে যান। পরবর্তীতে আরও গোল করে নিজের এই রেকর্ডকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করেন লিওনেল মেসি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করার বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নেন এই মহাতারকা। ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে এই কীর্তি গড়ে তিনি ২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গড়া (৩৩ বছর ১৩০ দিন) আগের রেকর্ডটি ভেঙে চুরমার করে দেন।

বিশ্বকাপের মঞ্চে ফুটবলার হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডটিও এখন এককভাবে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির দখলে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয় দিয়ে তিনি জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন। এরপর জর্ডানের বিপক্ষে আরেকটি জয়ে বিশ্বকাপে নিজের ব্যক্তিগত জয়সংখ্যাকে ১৯-এ উন্নীত করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি।

 গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষে এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে গোল করে বিশ্বকাপে টানা সাতটি ম্যাচে গোল করার নতুন রেকর্ড গড়েছেন লিওনেল মেসি। এর আগে টানা ছয় ম্যাচে গোল করে এই কীর্তির যৌথ মালিক ছিলেন ফ্রান্সের কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইন ও ব্রাজিলের জাইরজিনহো। এবার তাদের টপকে ইতিহাসের চূড়ায় বসলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

 পর্তুগালের ফুটবলের বরপুত্র ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও গড়েছেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অনন্য এক নজির। গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত জোড়া গোল করার মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা পৃথিবীর প্রথম ও একমাত্র ফুটবলার হিসেবে নিজের নাম অমর করে রাখলেন সিআরসেভেন।

ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাওয়ের প্রধান কোচ ডিক অ্যাডভোকাট ৭৮ বছর বয়সে বিশ্বকাপের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে তৈরি করেছেন এক নতুন ইতিহাস। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে তিনিই এখন বিশ্বকাপের মঞ্চে দল পরিচালনা করা সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রধান

 কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক এলয় রুম ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচে পুরো ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। অতিরিক্ত সময় ছাড়াই, নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মূল খেলায় একাই প্রতিপক্ষের ১৫টি নিশ্চিত গোল সেভ (রক্ষা) করেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৯০ মিনিটের নির্ধারিত সময়ে কোনো গোলরক্ষকের এত বেশি সেভ করার ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।

মন্তব্য করুন