১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ পালনের ঘোষণা

প্রকাশ: সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ পালনের ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অকুতোভয় ও গৌরবোজ্জ্বল প্রতিরোধকে স্মরণীয় করে রাখতে আগামী ১৮ জুলাই দেশব্যাপী ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিরোধ দিবস) পালন করা হবে। গতকাল রবিবার আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

তিনি জানান, আন্দোলনের সময় ১৬ ও ১৭ জুলাইয়ের দেশব্যাপী নির্মম ঘটনার পর ১৮ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসেন। সেদিন ঢাকার বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ হলে সম্ভবত চারজন শিক্ষার্থী শহীদ হন, যা তৎকালীন পুরো গণ-আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে এবং স্বৈরাচারী শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, এই ঐতিহাসিক দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে আগামী ১৮ জুলাই ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে একটি বিশাল প্রতিবাদী সমাবেশের আয়োজন করা হবে। সমাবেশ শেষে সেখানে আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিবাদী গণসংগীতের আয়োজন থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে ২০২৪ সালের মধ্য-জুলাইয়ের ভয়াবহ দিনগুলোর স্মৃতি চারণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৫ জুলাই তৎকালীন সরকারি ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও বহিরাগত সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা একযোগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে শান্তিকামী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর তাদের সেই হামলা ছিল অত্যন্ত তীব্র ও নির্মম। সেই কালো দিনটিকে স্মরণ করতে এবং বিশ্ববাসীর সামনে সত্য তুলে ধরতে সরকার একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করতে যাচ্ছে।’

তিনি জানান, এই প্রদর্শনীর সম্ভাব্য নাম হতে পারে ‘ক্যাম্পাসের ক্ষতচিহ্ন’ অথবা ‘প্রতিরোধের সূচনা’। বাংলাদেশ চারুকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘরের সামনের প্রাঙ্গণ অথবা শাহবাগ স্কয়ারের উন্মুক্ত স্থানে এই প্রদর্শনীটি সর্বসাধারণের জন্য আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের আরেকটি রক্তক্ষয়ী অধ্যায় টেনে ইশরাক হোসেন বলেন, ২৪ জুলাই ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে শুরু হওয়া অভূতপূর্ব প্রতিরোধে স্থানীয় সাধারণ জনগণ, ছাত্র-জনতা এবং অসংখ্য মাদ্রাসা শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছিলেন। ওই সময় যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত প্রায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে টানা কয়েক দিন ঐতিহাসিক অবরোধ কর্মসূচি চলেছিল। সরকারি বাহিনীর সেই সময়কার নির্বিচার গুলিতে সেখানে আমাদের কমপক্ষে ৮০ জন বীর ছাত্র-জনতা শহীদ হন। সরকার প্রতিটি শহীদের স্মৃতি ও অবদানকে রাষ্ট্রীয় নথিতে সংরক্ষণ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

মন্তব্য করুন