সরাইলে কিশোর মেকানিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ণ
সরাইলে কিশোর মেকানিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

সামজাদ জসি, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশ থেকে জিহাদ (১৭) নামের এক কিশোর মোটর মেকানিকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ—মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে কিংবা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। তবে ঘটনাটি ছিনতাই নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলতে পারছে না পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সরাইল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্র্যাক অফিসের পূর্ব পাশে, খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার আওতাধীন পুলের টুক সংযোগস্থল এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত জিহাদ সরাইল সদর ইউনিয়নের কুট্টাপাড়া গ্রামের আজগর আলীর ছেলে। সে স্থানীয় কুট্টাপাড়া মোড়ের ‘আরজু গ্যারেজে’ মোটর মেকানিক হিসেবে কর্মরত ছিল।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে জিহাদের বাবা আজগর আলী কুট্টাপাড়ার নাইল্লা ভাঙা খালে মাছ ধরতে যান। বিকেল চারটার দিকে বাবার ধরে আনা মাছ বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে যায় জিহাদ। খেলা শেষে সন্ধ্যার পর বাবাকে খাল থেকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে সে আবারও ঘর থেকে বের হয়।

রাত গভীর হলেও জিহাদ বাড়ি ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে মহাসড়কের ব্র্যাক অফিসের পূর্ব পাশে রাস্তার ধারে তাকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দুর্বৃত্তরা তার বাম হাত ও বাম উরুতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনন্ত কুমার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

সন্তান হারিয়ে বিলাপ করতে করতে নিহতের বাবা আজগর আলী বলেন, “আমার ছেলে আমাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে বের হয়েছিল। অনেক রাত পর্যন্ত না ফেরায় খোঁজাখুঁজি করে তাকে রাস্তার পাশে রক্তাক্ত পাই। তার সাধের মোবাইল ফোনটিও সেখানে ছিল না। আমার বিশ্বাস, ছিনতাইকারীরা অথবা কেউ পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার চাই।”

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করছে। তিনি বলেন, “এটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে নাকি পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। আমরা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছি। পুলিশের একাধিক টিম রহস্য উদঘাটন ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে মাঠে কাজ করছে। দ্রুতই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন