শ্রীপুরের বাঁধে ধস, পানিবন্দি ৩০ হাজার মানুষ

প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:৪২ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরের বাঁধে ধস, পানিবন্দি ৩০ হাজার মানুষ

হাবিবুল্লাহ্ সরকার, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা): টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসংলগ্ন সড়কের অন্তত ১২টি স্থানে ভয়াবহ ধস নেমেছে। এতে পুরো বাঁধটি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি যদি আর কিছুটা বৃদ্ধি পায়, তবে ধসে যাওয়া অংশ দিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করবে। যার ফলে নতুন করে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ার তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে।

canডিটেলসে জানা গেছে, গত বুধ ও বৃহস্পতিবারের মুষলধারে বৃষ্টিতে বাঁধের মাটির বিভিন্ন অংশ নরম ও দুর্বল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে একাধিক স্থানে বড় ধরনের ধস ও ভাঙন সৃষ্টি হয়। ফলে বাঁধের ওপর নির্মিত সড়ক দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ধসে যাওয়া অংশ দিয়ে যেকোনো মুহূর্তে নদীর পানি ঢোকার আশঙ্কায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।

ভুক্তভোগী জনগণের অভিযোগ, বাঁধের এই ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে শ্রীপুর ইউনিয়নের চাপড়া, পুটিমারি, কুরুয়ার বাজার, বাবুর বাজারসহ অন্তত ১০টি গ্রাম এবং কয়েকটি প্রধান হাটবাজার সম্পূর্ণ প্লাবিত হতে পারে। এতে হাজারো পরিবার জলমগ্ন হয়ে পড়ার পাশাপাশি বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও উঠতি ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মো. আতাউর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "বাঁধের অবস্থা খুবই নাজুক। এই সড়কটিই আমাদের যাতায়াতের প্রধান ভরসা। এখন একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে উজানের ঢলে নদীতে পানি বাড়ছে। ধসে যাওয়া জায়গাগুলো দ্রুত মেরামত করা না হলে পানি গ্রামে ঢুকে আমাদের ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করবে।"

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. পলাশ মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধের অন্তত ১২টি স্পটে ধস দেখা দিয়েছে। দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা না করলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়া ঠেকানো যাবে না। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়েছে।

শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশিদ বলেন, "বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো এখনই সংস্কার করা জরুরি। তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি আর সামান্য বাড়লেই শ্রীপুর ইউনিয়নের বড় অংশ তলিয়ে যাবে। নতুন করে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হওয়ার পাশাপাশি ফসলি জমি ও গবাদিপশু নিয়ে চরম সংকট দেখা দেবে। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বের সঙ্গে অবহিত করেছি।"

জরুরি এই দুর্যোগ পরিস্থিতিতেও স্থানীয় দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মশিউর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি অফিসে গিয়েও তাঁর দেখা পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের মুঠোফোনেও একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, "বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। বাঁধের সুরক্ষায় এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনতিবিলম্বে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।"

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন