মৌলভীবাজারে ডিবি পরিচয়ে অপহরণের পর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার
তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে আদালতে মামলার হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে প্রকাশ্য দিবালোকে ডিবি (ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চ) পরিচয়ে অপহরণের শিকার হয়েছেন আব্দুল মতিন (৫৫) নামের এক ব্যক্তি। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর রাতে নিজের বাড়ির সামনে থেকেই তার হাত-পা বাঁধা নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) রাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৪নং আপার কাগাবলা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। নিহত আব্দুল মতিন ওই গ্রামের মৃত হাজী আব্দুল মন্নানের ছেলে। ভাইদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পারিবারিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, রোববার সকাল ১০টার দিকে ভাইদের সঙ্গে চলমান একটি ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের মামলায় হাজিরা দিতে মৌলভীবাজার আদালতে যান আব্দুল মতিন। আদালতের কাজ শেষে বিকেলে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন।
নিহতের স্ত্রী একটি গণমাধ্যমকে জানান, পথিমধ্যে একটি কালো রঙের হাইএস মাইক্রোবাসে আসা কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে আব্দুল মতিনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। সিএনজিচালক তাৎক্ষণিক বিষয়টি ফোনে পরিবারকে জানালে তারা দ্রুত মৌলভীবাজার মডেল থানায় যোগাযোগ করেন। তবে থানা কর্তৃপক্ষ এই ধরনের কোনো আটকের কথা অস্বীকার করে পরিবারটিকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেয়।
নিখোঁজের পর চারদিকে যখন খোঁজাখুঁজি চলছিল, ঠিক তখনই রাত ৯টা থেকে ১০টার দিকে একটি সিএনজি অটোরিকশা আব্দুল মতিনের বাড়ির সামনে এসে থামে। স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, সিএনজি থেকে সন্দেহজনক কিছু একটা ফেলে দ্রুত গাড়িটি চলে যায়। কৌতূহলবশত তিনি এগিয়ে গিয়ে দেখতে পান, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আব্দুল মতিনের মরদেহ পড়ে আছে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পুলিশে খবর দেয়।
নিহতের পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে বলেন, "একটি কালো মাইক্রোবাসে ডিবি পরিচয়ে তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। আমরা থানায় যোগাযোগ করলেও কোনো সন্ধান পাইনি। রাতে বাড়ির সামনেই তার লাশ ফেলে যাওয়া হলো।"
মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এদিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পুরো দৌলতপুর গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, সেই সঙ্গে স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
|