গাজীপুরে সিএনজি পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ সারি
রেজাউল করিম মজুমদার, গাজীপুর: রাজধানীর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের এলাকাগুলোতেও। গ্যাসের তীব্র সংকটে পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলো।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) কালিয়াকৈরের বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ স্টেশন বন্ধ রয়েছে। খোলা থাকা দু-একটি পাম্পে পর্যাপ্ত প্রেশার না থাকায় থমকে গেছে পুরো অঞ্চলের পরিবহন ব্যবস্থা। মাত্র ১০০ থেকে ১৬০ টাকার গ্যাস পেতে পাম্পের দীর্ঘ লাইনে চালকদের ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ড, সফিপুর, চন্দ্রা, মৌচাক ও মির্জাপুর এলাকার পাম্পগুলো ঘুরে চালকদের চরম ক্ষোভ ও সিএনজি-গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
চন্দ্রা এলাকার রেন্ট-এ-কার চালক সোহেল রানা আক্ষেপ করে বলেন, "শুক্রবার ভোরে লাইনে দাঁড়িয়েছি, কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হলেও প্রেশার না থাকায় গ্যাস পাইনি। বাধ্য হয়ে পেট্রোল বা অকটেন দিয়ে গাড়ি চালালে জমা ও চালকের খরচ উঠিয়ে কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।"
মৌচাকের অটোরিকশাচালক সানাউল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ১৬০ টাকার গ্যাস পেয়েছিলেন। তা শেষ হলে ফের আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মেলেন মাত্র ১২০ টাকার গ্যাস। দীর্ঘ ১৫ বছরের ড্রাইভিং ক্যারিয়ারে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে তিনি কখনো পড়েননি।
কালিয়াকৈরের এক পাম্প কর্মকর্তা জানান, গ্যাসের প্রেশার আশঙ্কাজনকভাবে কম। বাধ্য হয়ে দুপুরে সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। চালকদের আকুল আবেদনের কারণে অনেক সময় কম প্রেশারেই বাধ্য হয়ে সীমিত গ্যাস দিতে হচ্ছে।
এদিকে পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অপচয় ও সিএনজি সংকট তৈরি হওয়ায় কালিয়াকৈরজুড়ে দ্বিগুণ ভাড়া হাঁকছেন চালকেরা। ২০ টাকার নিয়মিত ভাড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকায় ঠেকায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ চাকরিজীবী ও পথচারীরা।
এআইএল/সকালবেলা
|