রংপুরে জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
আবু রায়হান, রংপুর ব্যুরো: রংপুরের বহুল আলোচিত ‘ভিআইপি শাহাদাত সিন্ডিকেট’-এর বিরুদ্ধে রেকর্ড রুমের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ ও জাল দলিলের মাধ্যমে নগরীর জামাল মার্কেটসহ ১২৩ শতক পৈতৃক সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতা ও অর্থের প্রভাবে এই বিপুল সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে এর প্রকৃত মালিক দাবিদার ১৫টি পরিবারের সদস্যরা মানবেতর ও যাযাবর জীবনযাপন করছেন।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে নগরীর জামাল মার্কেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে এই অভিযোগ করেন মোহাম্মদ আব্দুল জলিল।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ারিশন মতিয়ার রহমান স্বপন, খোরশেদা আখতার, মোসলেমা বেগম, আদুরি বেগম, মৌসুমি বেগম, মনিরা বেগম, নারগিস আখতার, আব্দুল হালিম খোকন, ফেরদৌস, মাহবাবুর রহমান, নয়ন মিয়া, ফারুক, মুরাদ, শামীম ও সোহেলসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল জলিল অভিযোগ করেন, নগরীর রাধাবল্লভ মৌজার জেল নং ৯২-এর সিএস খতিয়ান ৩২৫, ৩২৬ এবং এসএ খতিয়ান ৩৬৪-এর অধীন ৫৪৮৪, ৫৪০১সহ বিভিন্ন দাগের মোট ১ একর ৩৩ শতক জমির মূল মালিক ছিলেন তাঁর নানী মৃত লতিফন নেছা খাতুন। দীর্ঘ ১০০ বছর ধরে তাঁদের পূর্বপুরুষেরা এই ভিটায় বসবাস করে আসছিলেন।
কিন্তু রংপুর মহানগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শতকোটি টাকা মূল্যের এই সম্পত্তির ওপর চোখ পড়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ভিআইপি শাহাদাৎ হোসেন, দিলরুবা শাহাদাৎ, আব্দুর রশিদ চৌধুরী, আবু বক্কর সিদ্দিক, মোঃ জাহিদুল ইসলাম রাহাত, সৈয়দ মাহাবুবার রহমান বকুল ও এস. এম ছাবের হোসেনসহ ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু চক্রের। চক্রটি লতিফন নেছা খাতুনের নামের আগে ‘সৈয়দা’ শব্দ যুক্ত করে তাঁকে নিজেদের পূর্বপুরুষ সাজায় এবং রেকর্ড রুমের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে। পরবর্তীতে পেশিশক্তি খাটিয়ে জমির ১ একর ২৩ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে বহুতল মার্কেট, বাড়ি ও অফিস নির্মাণ করে। বর্তমানে ১৫টি পরিবারের অন্তত ৬০ জন সদস্য মাত্র ১০ শতক জমিতে গাদাগাদি করে অমানবিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, প্রভাবশালী শাহাদাত সিন্ডিকেট ওই জালিয়াতি করা সম্পত্তি এক্সিম ব্যাংক রংপুর শাখায় কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখে। পরবর্তীতে তথাকথিত ঋণ পরিশোধের নামে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এই নিলামের অজুহাতে তাঁদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের একাধিক চেষ্টা চালানো হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কোর্ট লেবার এনে তাঁদের দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। তবে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও এলাকাবাসী ম্যাজিস্ট্রেটকে উচ্ছেদের বৈধ কোর্ট অর্ডার দেখানোর অনুরোধ করলে তিনি কোনো জুতসই কাগজপত্র দেখাতে না পেরে অভিযান বন্ধ করেন এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে কাগজপত্র পুনর্যাচায়ের নির্দেশ দিয়ে চলে যান।
আব্দুল জলিল আক্ষেপ করে বলেন, "আমাদের শতকোটি টাকার পৈতৃক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও চক্রটির ভয়ে আজ আমাদের কেউ কামারি করে, কেউ রিকশা ও ঠেলা চালিয়ে, আবার কেউ অন্যের বাসাবাড়িতে কাজ করে অনাহারে-অর্ধাহারে সংসার চালাচ্ছেন।"
পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধার এবং এই ভূমি জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), আইজিপি, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ডাকযোগে লিখিত আবেদন পাঠিয়েছেন। তবে বিবাদী পক্ষ অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় এখনো কোনো দৃশ্যমান সুরাহা মেলেনি।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ভিআইপি শাহাদাত হোসেনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এআইএল/সকালবেলা
|