ডায়াবেটিস থাকলেও মিষ্টি খাওয়ার সঠিক নিয়ম
লাইফস্টাইল ডেস্ক: আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, কারও ডায়াবেটিস ধরা পড়লে তাঁর খাদ্যতালিকা থেকে সব ধরনের মিষ্টি বা ডেসার্ট জাতীয় খাবার চিরতরে বাদ দিতে হবে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদদের মতে, রক্তে শর্করার (ব্ল্যাড সুগার) মাত্রা বাড়ার পেছনে একমাত্র মিষ্টি দায়ী নয়। তাই মিষ্টি খেলেই যে সুগার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে—এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। আধুনিক পুষ্টিবিদদের মতে, জীবন থেকে মিষ্টি বা শর্করা জাতীয় খাবারকে একেবারে নির্বাসনে না দিয়েও রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এর জন্য প্রধানত দুটি গুরুত্বপূর্ণ ও বৈজ্ঞানিক নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
১. দিনের নির্দিষ্ট সময়ে মিষ্টি খান (সার্কাডিয়ান রিদম মেনে চলা)
আমাদের শরীরের ভেতরের বিপাক প্রক্রিয়া (Metabolism) মূলত নিয়ন্ত্রিত হয় শরীরের নিজস্ব জৈবিক ঘড়ি বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ (Circadian Rhythm) দ্বারা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, মানবশরীরে সকালের দিকে ইনসুলিন হরমোনের কার্যকারিতা ও সংবেদনশীলতা বিকালের বা রাতের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় থাকে।
এই কারণে, যদি কেউ মিষ্টি বা শর্করা জাতীয় খাবার খেতে চান, তবে তা সকালের দিকে বা দুপুরের শুরুর ভাগে খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। এই সময়ে মিষ্টি খেলে শরীর তা দ্রুত ও ভালোভাবে হজম করতে পারে এবং রক্তে শর্করা ভালোভাবে শোষিত হয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বা স্পাইক করে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। বিপরীতে, আপনি যদি বিকেল গড়িয়ে যাওয়ার পর কিংবা রাতে ডিনারের পর মিষ্টি বা ডেসার্ট খান, তবে সুগার হঠাৎ আকাশচুম্বী হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাতের খাবারে মিষ্টি বা ডেসার্ট না রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
২. খাবারের সঠিক ক্রম বা সিকোয়েন্স বজায় রাখুন
ডায়াবেটিস না থাকলেও অনেক সময় ভুল পদ্ধতিতে মিষ্টি খেলে রক্তের শর্করা হঠাৎ বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছাতে পারে। তাই মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে ‘ফুড সিকোয়েন্সিং’ বা খাবারের ক্রম মেনে চলা উচিত।
পুষ্টিবিদদের মতে, খালি পেটে বা প্রধান খাবারের আগে কখনোই মিষ্টি খাওয়া উচিত নয়। মিষ্টি খেতে চাইলে তা সবসময় পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার (আঁশযুক্ত খাবার) এবং হেলদি ফ্যাট বা স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পরে খাওয়া উচিত। সহজ কথায়—প্রথমে থালার শাকসবজি (ফাইবার) এবং মাছ, মাংস বা ডিম (প্রোটিন) খাওয়া শেষ করুন, তারপর ডেসার্ট বা মিষ্টি মুখে তুলুন। ফাইবার ও প্রোটিন পাকস্থলীতে একটি আস্তরণ তৈরি করে, যা পরবর্তী সময়ে খাওয়া মিষ্টির শর্করাকে খুব ধীরগতিতে রক্তে মেশাতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিসের পাশাপাশি যাদের শরীরে ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স আছে, যারা প্রি-ডায়াবেটিক (ডায়াবেটিসের প্রাথমিক ধাপ) কিংবা নারীদের মধ্যে যাদের পলিসিস্টিক ওভারির (PCOS) সমস্যা আছে—তারাও এই সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী নিয়মটি মেনে চললে রক্তের শর্করাকে নিয়ন্ত্রণে রেখেই মিষ্টির স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন।
|