কাদের চিনাবাদাম খাওয়া ঠিক নয়; পুষ্টিবিদদের বিশেষ সতর্কতা

প্রকাশ: বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৩ অপরাহ্ণ
কাদের চিনাবাদাম খাওয়া ঠিক নয়; পুষ্টিবিদদের বিশেষ সতর্কতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক: চিনাবাদাম খেতে কার না ভালো লাগে? বন্ধুদের জমজমাট আড্ডায়, পার্কের বেঞ্চে বসে, কিংবা একা একা হাঁটতে হাঁটতে একমুঠো চিনাবাদাম মুখে পুরে দিলে মন ও শরীর দুই-ই চাঙ্গা হয়ে ওঠে। শুধু স্বাদের জন্যই নয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও চিনাবাদাম অনন্য। এটি প্রোটিন, ফাইবার, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এবং নানা খনিজের এক সমৃদ্ধ উৎস। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে বাদাম খেলে হৃদযন্ত্র ভালো থাকে, শরীর তাৎক্ষণিক শক্তি পায় এবং অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকায় তা ওজন কমাতেও দারুণ সাহায্য করে।

তবে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বলছে, এত গুণে ভরপুর হওয়া সত্ত্বেও চিনাবাদাম সবার জন্য আশীর্বাদ নাও হতে পারে। বিখ্যাত গণমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদেরা সতর্ক করেছেন যে, নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যা থাকলে চিনাবাদাম খাওয়া পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে খাওয়া উচিত। নিচে এমন ৪টি শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরা হলো:

১. উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন (Hypertension)

আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকে, তবে বাজার থেকে কেনা অতিরিক্ত লবণ দেওয়া বা মুচমুচে করে ভাজা চিনাবাদাম পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ, প্রক্রিয়াজাত বা অতিরিক্ত ভাজা বাদামে উচ্চ মাত্রায় সোডিয়াম থাকে, যা রক্তনালীতে চাপ সৃষ্টি করে রক্তচাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা যদি বাদাম খেতেই চান, তবে কাঁচা বাদাম সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খোসা ছাড়িয়ে খেতে পারেন।

২. ইউরিক অ্যাসিড, গাঁটে ব্যথা ও আর্থ্রাইটিস (Arthritis & Uric Acid)

যাদের রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি, কিংবা যারা দীর্ঘদিন ধরে গাঁটে ব্যথা ও বাতের ব্যথায় (আর্থ্রাইটিস) ভুগছেন, তাদের চিনাবাদাম খাওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। যেহেতু চিনাবাদামে প্রোটিন ও পিউরিনের পরিমাণ বেশ বেশি, তাই এটি কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মেটাবলিজম প্রক্রিয়ার পর রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে জয়েন্ট বা গাঁটে তীব্র ব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। এই ধরণের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ছাড়া বাদাম খাবেন না।

৩. বাদামে তীব্র অ্যালার্জি (Peanut Allergy)

খাদ্যজনিত অ্যালার্জির মধ্যে ‘পিনাট অ্যালার্জি’ বা বাদাম অ্যালার্জি অন্যতম মারাত্মক ও সংবেদনশীল। চিনাবাদাম খাওয়ার পর যাদের শরীরে অস্বস্তি, ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি, শ্বাসকষ্ট কিংবা পেট খারাপের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাদের অবশ্যই চিনাবাদাম এবং চিনাবাদামের তেল দিয়ে তৈরি সব ধরনের খাবার সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে। তীব্র অ্যালার্জির ক্ষেত্রে এটি অ্যানাফিল্যাক্সিসের মতো জীবনঘাতী পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

৪. যকৃৎ (লিভার) ও অগ্ন্যাশয়ের (প্যানক্রিয়াস) রোগ

যাদের লিভারের সমস্যা রয়েছে (যেমন ফ্যাটি লিভার) কিংবা অগ্ন্যাশয়ের রোগ আছে, তাদের অতিরিক্ত পরিমাণে চিনাবাদাম খাওয়া থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে। চিনাবাদামে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক তেল বা ফ্যাট (চর্বি) থাকে। যকৃৎ বা অগ্ন্যাশয় দুর্বল কিংবা রোগাক্রান্ত হলে এই অতিরিক্ত চর্বি হজম করা বা বিপাক করা এই অঙ্গগুলোর জন্য অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি করে, যা রোগটিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

পরিশেষ:

যেকোনো পুষ্টিকর খাবারই শরীরের জন্য তখনই ভালো কাজ করে, যখন তা সঠিক নিয়মে এবং শরীরের অবস্থা বুঝে খাওয়া হয়। তাই আপনার যদি উপরোক্ত কোনো শারীরিক জটিলতা থাকে, তবে ডায়েটে চিনাবাদাম রাখার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মন্তব্য করুন