ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা ও জবাবদিহিতায় রাখা সাংবাদিকের কাজ: কাদের গনি চৌধুরী

প্রকাশ: রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ
ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা ও জবাবদিহিতায় রাখা সাংবাদিকের কাজ: কাদের গনি চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্র ও ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের প্রশ্ন করা এবং তাঁদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখাই হলো সৎ ও প্রকৃত সাংবাদিকতার মূল কাজ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী। তিনি বলেন, “জবাবদিহিতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে এবং সমাজে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।”

আজ রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ’ এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাসস'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম।

বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, “সত্য প্রকাশ করার সাহসিকতাই সাংবাদিকতার প্রধান মূলমন্ত্র। দেশ ও গণমাধ্যমের স্বার্থে আমাদের সৎ, সত্যনিষ্ঠ এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত সাংবাদিকতা প্রয়োজন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, বর্তমানে বাংলাদেশে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জায়গা দখল করে নিয়েছে স্বার্থনির্ভর সাংবাদিকতা, দলবাজি ও হলুদ সাংবাদিকতা।”

বিগত সরকারের শাসনামলে গণমাধ্যমের ভূমিকা সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকার গণমাধ্যম ও জনগণের মাঝে বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি করে দিয়েছিল। অনেক চাটুকার সাংবাদিক তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলনে গুম, খুন বা দুঃশাসন নিয়ে কোনো প্রশ্ন না করে কেবল তৈলমর্দন করতেন। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনগুলো পরিণত হতো সংবর্ধনা সভায়। এভাবে শেখ হাসিনাকে মহাস্বৈরাচার বানিয়ে তোলার ক্ষেত্রে দালাল সাংবাদিকদের একটি বড় ভূমিকা ছিল—এই তিতা সত্য আমাদের স্বীকার করতেই হবে।”

গণমাধ্যমকে জনগণের একমাত্র শক্তির জায়গা উল্লেখ করে কাদের গনি চৌধুরী স্পষ্ট বার্তা দেন, “একটি আদর্শ ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যমের কোনো নির্দিষ্ট দল, গোষ্ঠী, সরকার বা কোনো এজেন্সির কাছে দাসত্ব বা দায়বদ্ধতা থাকে না; তার দায়বদ্ধতা থাকে শুধুই দেশের সাধারণ জনগণের কাছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, গণমাধ্যমের পরাজয় মানে জনগণের পরাজয়, আর জনগণের পরাজয় মানে রাষ্ট্রেরই চরম পরাজয়।”

মন্তব্য করুন