পরিবেশ রক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৫ অপরাহ্ণ
পরিবেশ রক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

বাসস: পরিবেশের ভারসাম্য ও প্রকৃতি রক্ষা করতে বর্তমান সরকার নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

আজ শনিবার (৪ জুলাই) সকালে যশোর জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে এক লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন এবং স্কুলের ১০ তলা বিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোর শিক্ষা বোর্ড এই ১ লাখ গাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘অতীতে আমাদের দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো মূলত আমদানিকৃত ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল-নির্ভর ছিল। পরবর্তীতে তা গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক করা হলেও এগুলো প্রকৃতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার এখন পুরোপুরি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানির দিকে মনোনিবেশ করছে।’

তিনি আরও জানান, পরিবেশ দূষণ কমাতে সরকার চলতি বাজেটে ইলেকট্রিক বাইকের ওপর ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিশেষ শুল্ক-কর ছাড় দিয়েছে। এর পাশাপাশি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি আধুনিক নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব সিটি করপোরেশন ও বড় বড় পৌরসভাগুলোর বর্জ্যকে পুনর্ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে পাঠদান প্রক্রিয়াকে শিক্ষার্থীদের কাছে আনন্দময় করে তোলা। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করতে শিক্ষকদের আরও সৃজনশীল ও আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষাজীবন শেষ করে তোমাদের মেধা ও যোগ্যতাকে নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠনে কাজে লাগাতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কেউ যেন ভুল পথে পা না বাড়াও। অনেক সময় বন্ধুরা অ্যাডভেঞ্চারের নামে প্রলুব্ধ করতে পারে, সেই সব প্রলোভন থেকে নিজেদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।’

যশোর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৩ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর যশোর জিলা স্কুলে এই ১০ তলা আধুনিক একাডেমিক ভবনটি নির্মাণ করছে।

প্রতিমন্ত্রী ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে নির্মাণস্থল ঘুরে দেখেন। এরপর তিনি জিলা স্কুল মাঠে যশোর শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দিয়ে বৃক্ষরোপণ অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দুটিতে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুকে আযম মু. আব্দুস ছালাম, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু এবং নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন