নীলফামারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী নিহত

প্রকাশ: শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৯ অপরাহ্ণ
নীলফামারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী নিহত

মোঃ মাইনুল হক, নীলফামারী: নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় যাত্রীবাহী নৈশ কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়াতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় সুমি রানি রায় (৩৫) নামে উত্তরা ইপিজেডের এক নারী কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক স্বপন রায় (৩০) গুরুতর আহত হয়েছেন। 

আজ শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের চৌধুরীরহাট বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সুমি রানি রায় জলঢাকা উপজেলার পশ্চিম শিমুলবাড়ী শাল্টিতলা এলাকার বাসিন্দা শ্যামল চন্দ্র রায়ের স্ত্রী। তিনি নীলফামারী সদর উপজেলার উত্তরা ইপিজেডে কর্মরত ছিলেন। আহত স্বপন রায় ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী এলাকার বিপিন রায়ের ছেলে এবং সম্পর্কে নিহতের ভাগ্নি জামাই।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোরে সুমি রানি রায় তাঁর ভাগ্নি জামাই স্বপন রায়ের মোটরসাইকেলে চড়ে কর্মস্থল উত্তরা ইপিজেডের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে চৌধুরীরহাট বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে ঢাকা থেকে মীরগঞ্জগামী 'মায়ের দোয়া' পরিবহনের একটি দ্রুতগতির নৈশ কোচ সামনে চলে আসে। বাসের সাথে সরাসরি সংঘর্ষ এড়াতে মোটরসাইকেল চালক স্বপন সজোরে ব্রেক চাপেন। তবে সড়কের ওপর দীর্ঘদিন ধরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বালুর কারণে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিচ্ছিল খেয়ে উল্টে যায়।

এ সময় চালক স্বপন রায় রাস্তার বাম পাশে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হলেও সুমি রানি রায় রাস্তার ডান পাশে ছিটকে পড়েন। ঠিক তখনই দ্রুতগতির বাসটির পেছনের চাকার নিচে মাথা পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর নির্মম মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় চালক স্বপন রায়কে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে সড়কের ওপর যত্রতত্র বালু স্তূপ করে রাখায় এই রুটে যাতায়াতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। তাঁরা অনতিবিলম্বে সড়ক থেকে বালু অপসারণ, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও স্থানগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধি এবং এই মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।

খবর পেয়ে জলঢাকা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর চালক বাসটি নিয়ে পালিয়ে গেলেও তা জব্দের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় হাইওয়ে ও থানায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন