রাঙামাটিতে বন্যাকবলিতদের ঋণের কিস্তি স্থগিতের অনুরোধ প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
রাঙামাটিতে বন্যাকবলিতদের ঋণের কিস্তি স্থগিতের অনুরোধ প্রতিমন্ত্রীর
রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দপ্তর প্রধানদের সাথে জরুরি মতবিনিময় সভায়

রাঙামাটি প্রতিনিধি: রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বন্যাকবলিত ও উপদ্বুত এলাকার অতিদরিদ্র ঋণগ্রহীতাদের ওপর থেকে ঋণের বোঝা কমাতে চলতি মাসের ঋণের কিস্তি আদায় না করার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। একই সাথে কিস্তি পরিশোধে বিলম্বের কারণে কোনো এনজিও যেন কোনো ধরনের অতিরিক্ত সুদ বা জরিমানা আদায় না করে, তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

আজ রবিবার (১২ জুলাই) রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক জরুরি পর্যালোচনা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই মানবিক আহ্বান জানান। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও পরবর্তীতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, কিস্তি পরিশোধে বিলম্বের কারণে এনজিওগুলো যাতে বন্যাকবলিত অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের কোনোভাবেই হেনস্তা না করে এবং অতিরিক্ত সুদ বা জরিমানা আদায় থেকে বিরত থাকে—সে বিষয়ে জেলার সক্রিয় এনজিও সংস্থাগুলোকে সরকারের এই বিশেষ অনুরোধ ও বার্তা পৌঁছে দিতে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।

ব্রিফিংয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় এ অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ওনাদের অনেকেই জীবিকা ও বিভিন্ন পারিবারিক প্রয়োজনে বিভিন্ন এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়েছেন। বর্তমান এই দুর্যোগপূর্ণ ও পানিবন্দী পরিস্থিতিতে ওনাদের পক্ষে দৈনন্দিন খরচ চালানোই যেখানে দায়, সেখানে চলতি মাসের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা অত্যন্ত কঠিন ও অমানবিক। তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে এ মাসের কিস্তি পরবর্তীতে গ্রহণ এবং বিলম্বের কারণে কোনো ধরনের চক্রবৃদ্ধি সুদ বা জরিমানা আরোপ না করার বিষয়টি আজকের বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। জেলা প্রশাসক অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্মকর্তাদের কাছে আমার এই জরুরি অনুরোধ পৌঁছে দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন।”

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির স্থানীয় সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সম্মানিত সদস্য (যুগ্মসচিব) সুমন বড়ুয়া, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, জেলার সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী জালাল উদ্দীনসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বৈঠকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর জেলার বিদ্যুৎ পরিকাঠামো দ্রুত সচল করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের বিষয়েও প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দপ্তর প্রধানদের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন