হিমাগারের অভাবে মৌলভীবাজারে কোটি টাকার ফসল নষ্ট
তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার কৃষি সমৃদ্ধ দুই উপজেলা শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) না থাকায় প্রতি বছর নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার মৌসুমি ফল ও সবজি। সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা না থাকায় অতিকষ্টে উৎপাদিত ফসল পানির দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এতে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছেন তাঁরা।
সরেজমিনে ও স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চায়ের রাজ্যখ্যাত শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা সবজি ও ফলমূল উৎপাদনের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত। এখানকার পাহাড়ি ও সমতল জমিতে রেকর্ড পরিমাণ আলু, টমেটো, করলা, শিম, শসা, আনারস ও লেবু উৎপাদিত হয়। কিন্তু পচনশীল এসব পণ্য সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ফসল তোলার মৌসুমে বাজারে যখন সরবরাহ বেড়ে যায়, তখন কৃষকেরা বাধ্য হয়ে নামমাত্র মূল্যে পণ্য ছেড়ে দেন। টমেটো চাষি আব্দুল মতিন জানান, " হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ফসল ফলাই, কিন্তু রাখার জায়গা নেই বলে পানির দরে বিক্রি করতে হয়। একটা কোল্ড স্টোরেজ হলে আমাদের আর ঋণের জালে জড়াতে হতো না।" বিশেষ করে আনারস ও লেবু চাষিরা জানান, পচনশীল হওয়ার কারণে অধিকাংশ সময় ফসল নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় থাকেন তারা।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আদমপুর, মাধবপুর, মুন্সীবাজারসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে বিপুল পরিমাণ সবজি চাষ হয়। কিন্তু হিমাগার না থাকায় কৃষকেরা নিজেদের বীজ সংরক্ষণের জন্য অন্য জেলার ওপর নির্ভর করতে হয়। হিমাগার থাকলে তারা অফ-সিজনে ভালো দামে পণ্য বিক্রি করতে পারতেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনত। কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে বিভিন্ন সময়ে সরকারি পর্যায়ে হিমাগার নির্মাণের জন্য জায়গা নির্বাচন ও প্রাথমিক প্রস্তাবনা পাঠানো হলেও অদৃশ্য কারণে সেই ফাইল আর আলোর মুখ দেখেনি। এতে কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানতে চাইলে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, "এখানকার কৃষিপণ্যগুলো পচনশীল হওয়ায় হিমাগার নির্মাণ অতীব জরুরি। এ ব্যাপারে সরকারিভাবে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।" উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, হিমাগার স্থাপনের বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। একই সুর শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিনের কণ্ঠেও। তিনি জানান, কৃষকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে শ্রীমঙ্গলে একটি হিমাগার স্থাপনের জন্য ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দ্রুত হিমাগার স্থাপিত হলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং প্রান্তিক কৃষকেরা সরাসরি লাভবান হবেন।
এম.এম/সকালবেলা
|