"এটি একটি পাতানো ম্যাচ ছিল": মন্তব্যের জেরে মিসরের ২ কোচ ও ১ খেলোয়াড় নিষিদ্ধ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ণ
"এটি একটি পাতানো ম্যাচ ছিল": মন্তব্যের জেরে মিসরের ২ কোচ ও ১ খেলোয়াড় নিষিদ্ধ

ক্রীড়া ডেস্ক: বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর শাস্তির চরম খড়্গ নেমে এসেছে মিসর জাতীয় ফুটবল দলের ওপর। ম্যাচজুড়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি এবং ম্যাচ শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও অনৈতিক অভিযোগ তোলায় দেশটির প্রধান কোচ, জাতীয় দলের কর্মকর্তা এবং এক তারকা ফুটবলারকে বিভিন্ন মেয়াদে নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা (ফিফা)।

ফিফার প্রদত্ত শাস্তির অধীনে মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান ও তাঁর যমজ ভাই তথা দলের ম্যানেজার ইব্রাহিম হাসানকে ৩ ম্যাচের জন্য ডাগআউটে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, রেফারিকে প্রকাশ্যে ‘জালিম’ ও ‘অত্যাচারী’ বলে অভিহিত করা ফুটবলার মোস্তফা জিকোকে ৫ ম্যাচের জন্য মাঠের বাইরে থাকার দীর্ঘ শাস্তি দিয়েছে ফিফা।

ম্যাচের শুরুর দিকে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ ব্যবধানে শেষ মুহূর্তের গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় মিসর। তবে ম্যাচ চলাকালীন এবং খেলা শেষের পর রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ম্যাচ পাতানো ও পক্ষপাতিত্বের চরম অভিযোগ তোলেন মিসরীয় প্রতিনিধিরা।

সবচেয়ে কড়া শাস্তি পাওয়া মোস্তফা জিকো ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করেছিলেন, “রেফারি চরম অন্যায় করেছেন। তিনি একদমই নিরপেক্ষ বা ন্যায্য ছিলেন না; তিনি একজন খাঁটি 'জালিম' (অত্যাচারী)। এটি স্পষ্ট ও দিবালোকের মতো পরিষ্কার যে আমাদের বিরুদ্ধে অবিচার করা হয়েছে।” ক্ষোভ চেপে রাখতে না পেরে তিনি আরও যোগ করেন, “এটি পুরোপুরি একটি সাজানো ও পাতানো ম্যাচ ছিল। আমাদের বিচার পাওয়ার জন্য একমাত্র আল্লাহই যথেষ্ট।”

ফিফার তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রধান কোচ হোসাম হাসান এবং ইব্রাহিম হাসান আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মালাউইয়ের বিপক্ষে টানা দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে দলের ডাগআউটে বসতে পারবেন না। এ ছাড়া ২০২৭ সালের মার্চে অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে ম্যাচেও মিসর দলের কোচিং প্যানেল থেকে তাঁদের দূরে থাকতে হবে।

অন্যদিকে, পাঁচ ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়া মোস্তফা জিকো মালাউইয়ের বিপক্ষে ২টি, এবং অ্যাঙ্গোলা ও দক্ষিণ সুদানের বিপক্ষে ১টি করে মোট ৪টি ম্যাচ মিস করবেন। এর বাইরেও তাঁর নিষেধাজ্ঞার আরও একটি ম্যাচ বকেয়া থাকবে, যা মিসরের পরবর্তী যেকোনো আন্তর্জাতিক অফিসিয়াল টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে কার্যকর হবে।