আসুন সবাই মিলেমিশে দেশের উন্নয়নে কাজ করি: বরিশালে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২২ অপরাহ্ণ
আসুন সবাই মিলেমিশে দেশের উন্নয়নে কাজ করি: বরিশালে প্রধানমন্ত্রী

বরিশাল ব্যুরো: দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “কিছুদিন আগে ধর্ম, বর্ণ ও মতাদর্শ নির্বিশেষে আমরা সকলে মিলে রাজপথে নেমে দেশ থেকে স্বৈরাচার হটিয়েছি। এবার আসুন, সেই একই জাতীয় ঐক্য নিয়ে সবাই মিলেমিশে দেশের জন্য, দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করি।”

আজ সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি এলাকায় সাগরদী খালের পাড়ে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে জনসাধারণের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে একটি নারিকেল গাছের চারা রোপণ করে এই সবুজায়ন কর্মসূচির সূচনা করেন। বৃক্ষরোপণ শেষে পরিবেশ ও দেশের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয় রোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পরিবেশ রক্ষা করা কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়, কিংবা এটি শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার কাজ নয়। আমাদের প্রত্যেক নাগরিককে এখানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আসুন, আজকের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির দিনে আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই—আমরা আমাদের দেশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও ভারসাম্যপূর্ণ রাখব। এটাই হোক আমাদের মূল অঙ্গীকার।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে সচেতন হব। আমাদের ঘরবাড়ি, অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ এবং হাসপাতালের আশেপাশের আঙিনা যাতে কোনোভাবেই নোংরা না হয়, পরিবেশ যাতে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর থাকে, সেই চেষ্টা আমাদের করতে হবে।”

ত্রিশ গোডাউন এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সাগরদী খালের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “সাগরদী খালটি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। এই খালের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব খালের দু’পাশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষেরও। আমরা প্রায়ই দেখি খালের পানিতে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, টিস্যু পেপারসহ নানাবিধ বর্জ্য ভাসছে। যারা বিকেলে এখানে ঘুরতে আসেন, তাঁদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ—অনুগ্রহ করে কোনো অপচনশীল বর্জ্য বা বোতল খালে ফেলবেন না।”

এ সময় তিনি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে খালের পাড়ে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন বা ময়লা ফেলার বিন স্থাপন এবং দর্শনার্থীদের সচেতন করতে মাইকিং করার নির্দেশনা দেন। একই সাথে খালের সাথে সংযুক্ত বাসা-বাড়ির সুয়ারেজ লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিকল্প ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করার জন্য সিটি কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেন।

প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা নিজেদের ঘর সুন্দর করে গুছিয়ে রাখি। কিন্তু নিজের এলাকা, নিজের দেশ পরিষ্কার রাখি না। আমরা অন্য দেশের সুন্দর সুন্দর জায়গা দেখে আফসোস করি, অথচ নিজেদের সম্পদ নিজেরাই নষ্ট করি। পরিবেশের খেয়াল না রাখলে দিনশেষে এর চরম মূল্য কিন্তু আমাদেরই দিতে হবে।”

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ খালের দুই পাড়ে একটি করে গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ স্লোগানে স্লোগানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

আজকের এই সংক্ষিপ্ত সফরসূচির শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও জোহরের নামাজ আদায় করেন। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন তিনি।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন