মুসলিম কিশোরী ধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

প্রকাশ: সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৭ অপরাহ্ণ
মুসলিম কিশোরী ধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ শহরতলির বারুইপুর অঞ্চলে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রায় ১১ বছর বয়সী ওই মুসলিম কিশোরীর মরদেহ রোববার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, শনিবার বিকেলে খাবার কিনতে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

মরদেহ উদ্ধারের পর ক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ শুরু করলে পুরো বারুইপুর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পাঁচজনের বেশি জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা (পূর্বতন ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে। প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পুলিশ পকসো (POCSO) আইনে ধর্ষণ ও হত্যার মামলা রুজু করে ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করেছে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার ও তিনজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে, ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তারা নিজেরাই এক অভিযুক্তকে ধরে ফেললেও পুলিশ প্রথমে নিষ্ক্রিয় ছিল। এছাড়া, বারুইপুর পশ্চিম অঞ্চলের বিজেপি সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযুক্তকে আড়াল করার এবং স্থানীয়দের পুকুরের কাছে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্যাতিতার পরিবারকে দ্রুত সুবিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে ভুক্তভোগী পরিবারের দেখা করার কথা রয়েছে।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বারুইপুর যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশ আটকে রাখে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন ও ডেরেক ও'ব্রায়েন একে ‘জরুরি অবস্থার শামিল’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে রাজ্য সরকারের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ গৃহবন্দি করার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, নিরাপত্তার স্বার্থেই প্রশাসন এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা অভিষেক ব্যানার্জী ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সূত্র: আনন্দবাজার

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন